ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সীমান্তে কেউ শক্তি দেখালে কড়া জবাব দেওয়া হবে। বিশ্বের কোনো শক্তি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দেশের সীমান্ত রক্ষার কাজ থেকে টলাতে পারবে না। তিনি বলেন, সন্ত্রাসে মদতদানকারী দেশগুলোসহ পুরো বিশ্ব দেখছে যে, প্রয়োজনে অন্য দেশে প্রবেশ করেও সন্ত্রাসীদের শেষ করে দিতে পারে ভারতীয় সেনা। গতকাল শনিবার দীপাবলিতে জয়সলমীরে লঙ্গেওয়ালা পোস্টে সেনাদের মাঝে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার মতে, বিস্তারবাদ একটি মানসিক সমস্যা। এদিকে সীমান্তে ভারতের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানি বাংকার ধ্বংস ও আরো সেনা নিহত হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের
প্রতি বছরের মতো এবারো দীপাবলির দিন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানদের সঙ্গে কাটান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ উপলক্ষে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মিষ্টি উপহার দেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বরফে প্রবল ঠান্ডা বা মরুভূমির তীব্র গরমে কর্মে অবিচল থাকেন। কিন্তু আপনাদের সঙ্গে দীপাবলির দিন কাটাতে না পারলে আমার উত্সব সম্পন্ন হয় না। আপনাদের আনন্দ আমার উত্সবের খুশি দ্বিগুণ করে দেয়’। এই নিয়ে সাত বছর ধরে দীপাবলিতে জয়সলমীরে সেনাদের মাঝেই কাটাচ্ছেন মোদি।
ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বলতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ পোক্ত হচ্ছে। আগ্রাসন, বিস্তারবাদের বিপক্ষে ভারত সোচ্চার। তার কথায়, বিস্তারবাদী শক্তির দ্বারা পৃথিবী অস্থির হয়ে উঠছে। আগ্রাসী নীতি অষ্টাদশ শতাব্দীর মানসিক বিপন্নতাকে তুলে ধরছে। এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে ভারত। এরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, দেশের স্বার্থের পরিপন্থি এমন কোনো কিছুই বরদাস্ত করা হবে না। গোটা বিশ্বে ভারতের খ্যাতি এবং উচ্চ অবস্থান সেনার শক্তি এবং বীরত্বের কারণেই।
ভারতের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানি বাংকার ধ্বংস
জি নিউজ জানায়, শুক্রবার সীমান্তে ভারতের পাল্টা হামলায় আট পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরো আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কোনো কোনো ভারতীয় মিডিয়ার তথ্যমতে, ১১ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের কয়েকটি বাংকার ও পোস্ট ধ্বংস হয়ে গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে পাঁচ ভারতীয় সেনা ও ছয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল।