ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যাত্রীরা আন্তঃজেলা অপরাধ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরাধী চক্রের মধ্যে রয়েছে আন্তঃজেলা মলম পার্টি, ডাকাত, ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী। চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকা আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী চক্রের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে মির্জাপুর থানার পুলিশ ও গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ একটি মাইক্রোবাসসহ ডাকাত, ছিনতাইকারী এবং অপহরণকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হয়েছেন অপহূত এক যুবক। মির্জাপুর থানা ও গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এই মহাসড়কের চন্দ্রা, বাইপাইল, নবীনগর, কোনাবাড়ী, আশুলিয়া, জয়দেবপুর, উত্তরা, মহাখালী ও গাবতলী থেকে অপরাধীরা নানা কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে বাস ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ করে আসছে। এছাড়া মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে নিরীহ যাত্রীরা। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অপরাধীদের ধরতে পুলিশ নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চলতি বছরে এই মহাসড়কে শতাধিক ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীরা ৮-১০ জন যাত্রীকে খুন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
সম্প্রতি রিপন (২৬) নামে এক যুবককে অপহরণ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে পালানোর সময় আন্তঃজেলা ডাকাত ও অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে মাইক্রোসবাসহ গ্রেফতার করেছে হাইওয়ে থানার পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী ও ডাকাত দলের তিন সদস্য পালিয়ে যায়। অপহরণকারী দলের সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযান চালিয়ে অপহূত যুবককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কৌশলে রিপনকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছে দেবে বলে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে ওঠায়। মাইক্রোবাসে আরো পাঁচ জন যাত্রী ছিল, যারা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য। রিপনের পিতার নাম সালাম ব্যাপারী। গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুরে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রিপনকে মাইক্রোবাসে ওঠানোর পর ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যরা কালিয়াকৈর ওভারব্রিজ পার হওয়ার পরপরই রিপনের হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারপিট করে ২৮ হাজার টাকা, মোবাইল ফোনসহ মালামাল নিয়ে নেয়। মাইক্রোবাসটি গোড়াই বাস স্টেশনে আসার সময় মাইক্রোবাসে আর্তচিত্কার শুনে ডিউটিরত হাইওয়ে পুলিশ ধাওয়া করে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাশেম ড্রাইসেল এলাকায় অপহরণকারী যুবক রিপনকে আহত অবস্থায় ফেলে দিয়ে ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যরা চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশও পেছন থেকে ধাওয়া দিলে মাইক্রোবাসটি দেওহাটা ওভারব্রিজ দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে বাইমাইল গ্রামে ঢুকে পালানোর চেষ্টা করে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুই ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতেরা হচ্ছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সাতারহাটা গ্রামের হালিম মিয়ার ছেলে সহিদুল ইসলাম নাহিদ (২৮) এবং একই উপজেলার পাচারচর গ্রামের নুর আলমের ছেলে জাকির হোসেন (৩০)। এ সময় তিন ডাকাত ও ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। গত ২৪ অক্টোবর কদিমধল্যা নামক স্থানে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ছয় ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। ডাকাত দলের সদস্যরা হচ্ছে হারুন (২২), রবিন (২৫), রাজ্জাক (২৪), শাহীন (২৫), জাফর (২৬) ও কামরুল (২৫)। তারা একাধিক ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের হাইওয়ে থানার পুলিশ গ্রেফতারের পর থানায় সোপর্দ করেছে। অপহরণকারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।