বরিশাল ও কুড়িগ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় দুই শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালকসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বরিশাল অফিস ও বাকেরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে এক কন্যাশিশুর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ঐ শিশুকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার জেলার বাকেরগঞ্জের নীলগঞ্জ এলাকায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এলাকার বশির হাওলাদারের মেয়ে শিশু জুই (৯) বিকালে তার মামার বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী কবির চৌকিদারের ছেলে সাইল ও তার সহযোগীরা শিশুটিকে তুলে নিয়ে একটি বাথরুমে আটকে রাখে। সেখানে হাত-পা বেঁধে শিশুটিকে নির্মমভাবে পেটায় তারা। এক পর্যায়ে তার মুখমণ্ডলে গামছা বেঁধে নাকে-মুখে পানি ঢেলে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করে। পরে শিশুটিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়েছেন নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবার ও তার স্বজনরা।
এদিকে শিশু জুইকে নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা বশির হাওলাদার বাদী হয়ে শুক্রবার অভিযুক্ত সাইলসহ পাঁচ জনকে আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রৌমারী কওমি মাদ্রাসায় পড়া না পারায় আবু আইয়ুব আনছারি (৮) নামের এক ছাত্রকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। অসুস্থ শিশুটিকে শুক্রবার বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালক ও শিক্ষক নুরুল্যাহকে গ্রেফতার করে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান রৌমারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিত্সক অলোক কুমার বলেন, রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশু নির্যাতনের বিষয়ে মাদ্রাসা সভাপতি কাবিল উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত শিশু নির্যাতনকারী শিক্ষক হাফেজ কারি রফিকুল ইসলাম ও শিক্ষাসচিব জয়নাল আবেদীনকে বহিষ্কার করা হবে।