এক দশকে দেশে ভুট্টার উত্পাদন বেড়েছে ৪৭ লাখ টন

দেশে মাত্র এক দশকের ব্যবধানে ভুট্টার উত্পাদন বেড়েছে ৪৭ লাখ টন। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে ভুট্টার উত্পাদন ছিল মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজার টন। যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ টনে। তবে প্রতি বছর দেশে ভুট্টার চাহিদা ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে ও বিদেশে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভুট্টার উত্পাদন বছরে ১ কোটি টনে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, এটি করতে পারলে ভুট্টা উত্পাদনে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন নয়, বিদেশে রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

গত শুক্রবার রাতে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (সিমিট) এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিসচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভুট্টার উন্নতজাত উদ্ভাবন হয়েছে, অনুকূল কৃষি জলবায়ু রয়েছে ও কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে ভুট্টার উত্পাদন বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। দেশে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদের খাদ্য হিসেবে ভুট্টা ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য ভুট্টার  উত্পাদন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সিমিটের মহাপরিচালক মার্টিন ক্রোফ বলেন, সিমিট ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। সিমিট বাংলাদেশে গম ও ভুট্টার উন্নয়নে গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাত উদ্ভাবন, বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ব্লাস্ট ও ফল আর্মিওয়ার্মসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও দমনে সহায়তা আরো বাড়াবে।

সিমিটের মহাপরিচালক মার্টিন ক্রোফের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. এছরাইল হোসেন, সিমিটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি টিমোথি জে ক্রুপনিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বর্তমানে বাংলাদেশে গমের ব্লাস্ট রোগ ও ভুট্টায় ফল আর্মিওয়ার্ম পোকার আক্রমণকে গম ও ভুট্টা উত্পাদনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিমিটের কর্মসূচি পরিচালক ব্রুনো জেরার্ড ও বি এম প্রসন্ন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য নানান পাঁয়তারা করছে। এই শক্তি ধর্মকে অপব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানান অপকর্ম করছে। বাংলাদেশ সাম্প্র্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। সকল সম্প্রদায় মিলে আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্যই  অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার রেললাইন সংলগ্ন মহাশ্মশান ও কালি মন্দির ভার্চুয়ালভাবে উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।