আনিসুজ্জামান, রাজশাহী
আলুর দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে বীজআলু খাবার হিসেবে আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন ভরা মৌসুমে রাজশাহীতে বীজআলুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে এবার আলুচাষ ব্যাহত হবার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় আলুচাষি ও কৃষিবিদরা জানান, করোনায় ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করায় এবার বাজারে আলুর চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া দফায় দফায় বন্যা, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব কারণে এবার স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে আলু বিক্রি হয়। খাবার আলুর দাম ওঠে প্রতি কেজি ৫০ টাকায়। আলুর দাম বেশি পাওয়ায় অনেকে কোল্ডস্টোরেজে রাখা বীজআলু খাবার আলু হিসেবে বিক্রি করে দেন। এখন আলু লাগানোর মৌসুমে বীজআলুর সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক চাষি বীজআলু সংগ্রহে রাখলেও ক্ষুদ্র চাষিরা পড়েছেন বেকায়দায়। তারা হন্যে হয়ে ভালো মানের বীজ খুঁজছেন। বিশেষ করে ব্র্যাক বীজের প্রতিই চাষিদের আগ্রহ বেশি বলে জানা গেছে। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় ব্র্যাক বীজআলু চাহিদামতো দিতে পারছে না। তবে বিএডিসি সূত্রগুলো জানায়, তাদের কাছে পর্যাপ্ত বীজআলু রয়েছে, সংকট হবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপপরিচালক সামছুল হক জানান, এবার রাজশাহীতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর। প্রতি হেক্টরে দেড় মেট্রিক টন হিসাবে বীজের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। বড় চাষিরা বীজ সংগ্রহে রেখেছেন। ক্ষুদ্র চাষিদের বীজের চাহিদা রয়েছে। এবার ব্র্যাক বীজের সরবরাহ কম, তবে বিএডিসির পর্যাপ্ত বীজ রয়েছে। তাই সংকট হবে না। তাছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সারেরও কোনো সংকট হবে না।
তবে জেলার তানোরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলুবীজের সংকটে সেখানকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আলুবীজের সংকটে এবার আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আলুচাষিরা বলছেন, অন্য বছরে আলুর দাম কম হওয়ায় নামে-বেনামে বিভিন্ন কোম্পানি বীজআলু সরবরাহ করলেও এবার দাম বেশি হওয়ায় কোম্পানিগুলোর আলুবীজ তারা চোখেও দেখেননি। শুধু তাই নয়, বাজারে আলুর দাম বেশি থাকায় হিমাগার মালিকরা তাদের বীজের জন্য সংরক্ষিত আলুও খাবার হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে এ বছর আলুবীজের সংকট দেখা দিয়েছে। তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বীজ ডিলারের দোকানে চাষিরা হন্যে হয়ে আলুবীজের খোঁজ করছেন। আর ডিলাররা ‘বীজ নাই’ বলে জানিয়ে দিচ্ছেন। তার পরও চাষিরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকছেন দোকানের সামনে। এ ব্যাপারে ব্র্যাকের আলুবীজের একমাত্র ডিলার শাহীন আলম বলেন, তানোরে ব্র্যাকের আলুবীজের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ৫৮০ মেট্রিক টন। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ১২০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে মাত্র ৫০ মেট্রিক টন পেয়েছি। বাকি ৭০ মেট্রিক টন কবে পাব, তা জানি না। তিনি বলেন, আলুবীজের বরাদ্দ না বাড়ালে চাষিরা এবার আলুচাষ করতে পারবেন না। উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন, আলুবীজ রোপণে এখনো কয়েক সপ্তাহ বাকি রয়েছে। কৃষকরা সার কিনে স্টক করতে শুরু করেছেন। আলুবীজও সময়মতো কৃষকরা পেয়ে যাবেন।