যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প-সমর্থক ও বিরোধীদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ

যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল এখনো মেনে নেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ভোটে কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। তার মুখের কথার অনুরণন এবার রাজপথে দেখা গেল। তার সমর্থকরা ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ করেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মার্চ করেছে। পালটা বিক্ষোভ করেছে ট্রাম্পের বিরোধীরা। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন ছুরিকাহত ও দুই পুুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ দুই পক্ষের ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইন্ধনও দিতে গেছে। এদিকে গতকাল টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জো বাইডেন জিতেছেন। খবর ডেইলি মেইল, ব্লুমবার্গ ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের

হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন ফ্রিডম প্লাজা থেকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকা পর্যন্ত র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ৭ নভেম্বর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ করেছে তার সমর্থকরা। সেগুলো আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও শনিবারের বিক্ষোভের আকার ছিল বিশাল। ওথ কিপারস মিলিশিয়া ও প্রাউড বয়েজের সদস্যরাসহ বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থি সংগঠনের সদস্যরা এতে অংশ নেয়। বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টুইটও করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

শনিবারই ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়ে রাস্তার দুই ধারে জমা হওয়া হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়। সমর্থকরাও ট্রাম্পকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। শূন্যে হাত রেখে চিত্কার করে সমর্থন জানিয়েছেন এবং মোবাইল ফোনে ছবি তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একাধিক পোস্টার দেখা গেছে যেখানে লেখা ছিল ‘বেস্ট প্রেসিডেন্ট এভার’ ‘স্টপ দ্য স্টিল’, ‘ট্রাম্প ২০২০ : কিপ আমেরিকা গ্রেট’, ‘নো মোর বুলশিট’ এর মতো স্লোগান। পতাকা উড়িয়ে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তার সমর্থকরা। হাজার হাজার জনতার কণ্ঠে শোনা গেছে, উই ওয়ান্ট ট্রাম্প! উই ওয়ান্ট ট্রাম্প! কিংবা ‘ফর মোর ইয়ার্স, ফর মোর ইয়ার্স’ এর মতো স্লোগান। ওয়াশিংটনের ঐ মিছিলে আসা এক ট্রাম্প ভক্ত বলেন, আমরা কিছুই শুনতে চাই না। আমরা আমাদের প্রেসিডেন্টকে আরো চার বছরের জন্য ফিরে পেতে চাই। এই ভোটে নির্ঘাত কারচুপি হয়েছে। অনেক অবৈধ ভোটার ভোট দিয়েছে এমনকি মৃত মানুষদেরও ভোট পড়ে। কিন্তু এর প্রমাণ দিতে বললে তিনি কোনো উত্তর দেননি। বিক্ষোভ করায় সমর্থকদের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন। তিনি পুলিশকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিরোধীদের ভয়ে যেন তারা পিছিয়ে না যান।

বিক্ষোভে সংঘর্ষ, একজন ছুরিকাহত

গতকাল পালটা বিক্ষোভে নামে ট্রাম্পবিরোধী বাম ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারপন্থিরা। ওয়াশিংটনের রাস্তায় তাদের সঙ্গে ট্রাম্পপন্থিদের সংঘর্ষ হয়। রাতের অন্ধকারে একজনকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই পুলিশও আহত হয়েছেন। কিছু স্থানে ট্রাম্পপন্থি এবং বিরোধীরা বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এটা সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একজনের মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েক জনের বিরুদ্ধে বন্দুক আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।

‘বাইডেন জিতেছেন, তবে কারচুপির মাধ্যমে’

গতকাল রবিবার টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বাইডেন জিতেছেন, কারণ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষক ছিলেন না, চরম বামপন্থি মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভোট গণনার কাজ তদারকি করেছে। যারা কাজ পাওয়ার যোগ্য নয়। টেক্সাসে বিজয়ের পরও সরঞ্জাম দিয়ে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়। যেখানে আমি বিপুল ব্যবধানে জিতেছি। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভুয়া ও কিছু নিরব গণমাধ্যম। প্রসঙ্গত, মার্কিন নির্বাচনে এরই মধ্যে জয় নিশ্চিত করা জো বাইডেন রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জর্জিয়া রাজ্যেও জয় পেয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মোট ইলেকটোরাল ভোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩২টিতে।