প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আরো বৃহত্ পরিসরে দায়িত্ব পালনে সক্ষম একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গতকাল রবিবার সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, পাঁচটি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল, দুটি ফাস্ট প্যাট্রোল বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস, ভোলার কমিশনিং প্রদানকালে তিনি আরো বলেন, নতুন নতুন দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে আমরা কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড ও খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হয়েছে আজকের কমিশনিং করা ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল এবং ফাস্ট প্যাট্রোল বোটগুলো। তিনি বলেন, আমরা নিজেরাও জাহাজ তৈরি করতে পারি, সেটারই আজ প্রমাণ পেলাম। আজকে এটা আমাদের নিজেদের কাজে লাগল। আগামীতে আমরা রপ্তানিও করব ইনশাল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে মূল অনুষ্ঠানস্থল চট্টগ্রামের কোস্ট গার্ড বার্থ পতেঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী রবিবার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৯টি জাহাজ এবং একটি ঘাঁটি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। এর ফলে বাহিনীর বহরে সংযোজিত জাহাজসমূহ ও ঘাঁটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করবে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমানার অতন্দ্র প্রহরীর মতো সক্রিয় উপস্থিতি ও সমুদ্রসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড যাত্রা শুরু করে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সরকারী প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পাঁচটি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল বিসিজিএস সবুজ বাংলা, শ্যামল বাংলা, সোনার বাংলা, স্বাধীন বাংলা ও অপরাজেয় বাংলা এবং দুটি ফাস্ট প্যাট্রোল বোট বিসিজিএস সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া গতকাল এ বাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে।
কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে গভীর সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও নিরাপদ রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় এ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে গভীর সমুদ্রসম্পদের অন্বেষণ, আহরণ ও সংরক্ষণ এবং ব্লু-ইকোনমিকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘জাটকা নিধন রোধে এবং মা-ইলিশ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুজিববর্ষে কোস্ট গার্ডের বহরে এই নৌযানগুলো যুক্ত হওয়া সংস্থাটির জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে। কারণ, আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল টহলে রাখাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আশরাফুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে অধিনায়কগণের হাতে ‘কমিশনিং ফরমান’ হস্তান্তর করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশীয় শিপইয়ার্ডে তৈরি এ জাহাজগুলো কোস্ট গার্ডের অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ও নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিসিজি বেইস ভোলারও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ।