মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক ফাতেমা রিমান্ডে

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম হত্যা মামলায় মাইন্ড এইড হাসপাতালের পরিচালক ফতেমা তুজ যোহরা ময়নাকে (৪৫) চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকি বিল্লাহ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পরিদর্শক ফারুক মোল্লা। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর দুপুরে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীকে অসুস্থতার বিষয়ে অবহিত করে ফাতেমাকে আদালতে হাজির করতে হাজতি পরোয়ানা (পিডব্লিউ) ইস্যুর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনে বলা হয়, ফাতেমা তুজ যোহরাকে গ্রেফতারের পর ১২ নভেম্বর আদাবর থানায় আনা হয়। আগে থেকে তিনি হূদরোগে আক্রান্ত। থানা হেফাজতে থাকাকালে ১৩ নভেম্বর ১২টা ১০ মিনিটের বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে চিকিত্সার জন্য জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। অধ্যাপক ডাক্তার গোলাম আজমের অধীনে তিনি চিকিত্সাধীন।

চিকিত্সা শেষে সুস্থতাসাপেক্ষে আদালতে সোপর্দ করলে ফাতেমার বিরুদ্ধে হাজতি পরোয়ানা ইস্যু করা হবে বলে আদেশ দেন বিচারক।

এদিকে মামলাটিতে গত ১০ নভেম্বর ১০ আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তারা হলেন—মাইন্ড এইড হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, শেফ মাসুদ, ওয়ার্ডবয় জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, লিটন আহাম্মদ, সাইফুল ইসলাম পলাশ ও ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান। মামলার আসামিদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিন এখনো পলাতক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক ঝামেলার কারণে আনিসুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৯ নভেম্বর দুপুরে আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি ও মারধরে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করে পরিবার।