মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে শিগিগর মোবাইল কোর্ট

করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ নিয়ে আরো সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল সভায় তিনি ঐসব নির্দেশ দেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী আর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ৭০ দিন সংক্রমণের হার কিছুটা কম ছিল। কিন্তু গতকাল আবার সংক্রমণের হার বেড়েছে। গতকাল সংক্রমণের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০। গত ৬৯ দিনে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫০০-১ হাজার ৬০০-এর মধ্যে।  জানা যায়, আর্থিক ব্যবস্থায় পুরো ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সঞ্চয় স্কিম করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তুরস্কে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ‘বাংলাদেশ-তুরস্ক মিউচুয়াল অ্যাসিসটেন্ট ইন কাস্টমস ম্যাটার চুক্তি’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রপ্তানি কমায় এই চুক্তি করা হয়েছে। ‘জাতীয় পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক জরুরি অবস্থায় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা’ খসড়ায়ও অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রণোদনা, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সুবিধাভোগীসহ সরকারের অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ২০২৫ সালের মধ্যে অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমের মধ্যে আনতে পাঁচ বছরমেয়াদি একটি কর্মকৌশলের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’-এর বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় এনে তাদের জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল বিষয় হচ্ছে ডিজিটাইজেশন এবং ইনোভেশনের মাধ্যমে একটি টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য এই কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে।’ কৌশলপত্রে সাতটি উদ্দেশ্য ও ১২টি কৌশলগত অভীষ্ট এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ৬৫টি লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই কৌশলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা অর্থায়ন প্রাক্কলন করা হয়েছে।