টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি জনপথের লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল এই চার ইউনিয়নের শতাধিক আঞ্চলিক রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পরেছে। যুগযুগ ধরে এই চার ইউনিয়নের ভাঙ্গাচোরা ও কাঁদা পানিতে ভরপুর আঞ্চলিক রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী থাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার পাহাড়ি জনপথের আঞ্চলিক বেশ কয়েকটি রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে জনসাধারণের চলাচলের দুর্ভোগের চিত্র।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার (৫৫) ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আকিুর রহমান মিলটন (৪৭) জানান, পাহাড়ি জনপথ হওয়ায় উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মদ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল চার ইউনিয়ন অবহেলিত। খাটিয়ারঘাট-গায়রাবেতিল, বংকুরি-বাঁশতৈল, বংশীনগর-মুচিরচালা, পাঁচগাও-তেলিপাড়া, কাইতলা-দরানিপাড়া,চকবাজার-বালিয়াজান, গাগড়াই-লতিফপুর, শেবারমাঠ-খাটিয়ারঘাট, সাতকুড়া-তেলিনা, বান্দাচালা-কুড়াতলি, কুড়িপাড়া-আজগানা, চিতেশ্বরী-পাঁচগাও, ঝুপবাড়ি স্কুল-কালারচালাসহ লতিফপুর এবং তরফপুর ইউনিয়নের শতাধিক আঞ্চলিক রাস্তার খুবই করুন অবস্থা। এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দুরের কথা পায়ে হেঁটে চলাই দুরহ। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপর পানি জমে পুরো রাস্তা কাঁদায় পরিপূর্ণ হয়ে পরে। এই ইউনিয়নের হাজার হাজার জনসাধারণ প্রতিদিন বেহাল রাস্তায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সদর ও জেলা সদরের সঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করে আসছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, মির্জাপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে পাহাড়ি জনপথের লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল এই চার ইউনিয়নের শতাধিক আঞ্চলিক কাঁচা রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পরেছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপজেলা প্রকৌশল অফিস এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বেহাল রাস্তার তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বেহাল রাস্তাগুলো দ্রুত কাজ করা হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান এবং এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ভাঙ্গা রাস্তার তালিকা তৈরির পর অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ এলে দ্রুত কাজ করা হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ