বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক
সরকারি হাইমচর মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর
১। নবীনপুর শিক্ষা -দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার ফলে এলাকাবাসী সবক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। উক্ত এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী এবং সম্পদশালী এক ব্যক্তির উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে উক্ত এলাকার মানুষ সমাজ সচেতন হয়ে উঠে। এলাকার শিক্ষিত উন্নয়নকর্মী রায়হানা নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলে।
ক) ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন কে ? খ) বাংলা ১১৭৬ সনে এ দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় কেন ? গ) উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় কীসের উদ্ভব ঘটেছিল ?
ব্যাখ্যা কর। ঘ) ‘রায়হানার মতো উন্নয়নকর্মীদের উদ্যোগের ফলেই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম করে’ উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
ক) উত্তর: লর্ড ক্যানিং ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন।
খ) উত্তর: রাজস্ব আদায়ে অতিরিক্ত কর আদায় এবং ধারাবাহিক অনাবৃষ্টির ফলে বাংলা ১১৭৬ সনে এ দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দেওয়ানি লাভের পর বাংলার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা তাদের হাতে চলে যায়। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেয় এবং কর আদায়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল উত্পাদনে ব্যর্থ হয় ফলে প্রচুর খাদ্য সংকট দেখা দেয়। মূলত এই দুই কারণেই বাংলা ১১৭৬ সনে এ দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই দুর্ভিক্ষে প্রায় এক কোটি মানুষ মারা যায়।
গ) উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় নবজাগরণের উদ্ভব ঘটেছিল । উদ্দীপকে বর্ণিত নবীনপুর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী এবং সম্পদশালী এক ব্যক্তির উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত হয়। এছাড়া এলাকার শিক্ষিত উন্নয়নকর্মী রায়হানা নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলে। ব্রিটিশ শাসকদের সহযোগিতায় রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রায়হানার মতো ভূমিকা পালন করে সমাজ সংস্কারে যথেষ্ট অবদান রাখেন। ইংরেজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটে। বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, নানা সংস্কার,বিধান সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় ও প্রশ্ন জাগতে শুরু করে। হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয় এবং বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে জনমত তৈরি হয়। এইভাবে বাংলায় নবজাগরণের সূচনা হয়।
ঘ) উত্তর: ‘রায়হানার মতো উন্নয়নকর্মীদের উদ্যোগের ফলেই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম করে’ উক্তিটি যথার্থ। উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসকদের বেড়াজাল ছিন্ন করে নবজাগরণের উন্মেষ ঘটাতে কিছু স্বাধীনচেতা প্রগতিশীল মানুষ এগিয়ে আসেন। সমাজের অনাচার নিয়ে আত্মসমালোচনার পাশাপাশি শাসকদলের অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং আন্দোলন গড়ে তুলেন। মূলত তাদের নির্দেশিত পথেই ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকে উন্নয়নকর্মী রায়হানা নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলে। রায়হানার মতো কয়েকজন স্বাধীনচেতা প্রগতিশীল ব্যক্তির প্রচেষ্টায় জনমনে নবজাগরণ ঘটে। রাজা রাম মোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর,ডিরোজিও প্রমুখ অবাধে মুক্তমনে জ্ঞানচর্চার সূত্রপাত ঘটান। তাদের হাত ধরেই ঔপনিবেশিক শাসনামলে আধুনিক শিক্ষা বিকাশের সাথে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। যার ফলে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারবোধেরও উন্মেষ ঘটে। যার সূত্রধরে সশস্ত্র বিল্পবী সংগ্রামের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ধরনের নিরবিচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় ‘রায়হানার মতো উন্নয়নকর্মীদের উদ্যোগের ফলেই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়।’