কক্সবাজারে মিডওয়াইফারি কোর্স

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বেষ্টিত জেলা কক্সবাজার। এ জেলার ৮০ শতাংশ মানুষের বসবাস গ্রামে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল (কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্থায়ী ক্যাম্পাস) এ অঞ্চলের একমাত্র  সর্বোচ্চ সেবাকেন্দ্র। এ জেলার ৮টি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী এ হাসপাতালের সেবার ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ মানুষ গ্রামীণ জনপদের বলে হাসপাতালে এসে মায়েরা সেবা নিতে পারেন না। তবে উপজলো স্বাস্থ্য কমপে­ক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এখানকার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীরা হাসপাতালে এসে সেবা নিতে সংকোচবোধ করেন। তাছাড়া কিছু কুসংস্কার বা বিশ্বাসের কারণে তাঁরা হাসপাতালে এসে সেবা নিতে চান না। ফলে প্রসূতি মায়েরা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিতে পড়েন এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয়। সম্প্রতি এ জেলায় শিশু জন্মের হার বেড়েছে, তাছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে জনসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা অমূলক নয়।

আমরা ঘরে ঘরে সেবাটা প্রদান করলে মায়েরা উত্সাহ হারাবেন না এবং প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুঝুঁকি কমবে ও শিশু-মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে। আর ঘরে ঘরে প্রসূতি মায়ের সেবা পৌঁছে দিতে চাইলে মিডওয়াইফ তৈরির বিকল্প নেই। এজন্য  প্রয়োজন মিডওয়াইফারি কোর্স চালু কৃরা। জেলার একমাত্র সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ডিপ্লে­ামা ইন নার্সিং কোর্স চালু আছে। তবে ডিপ্লে­ামা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স চালু  করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পরিশেষে এইটুকু বলি—জন্মের পর নবজাতক যাকে দেখে তিনি হচ্ছেন সিএসবিএ, মিডওয়াইফ বা গাইনোকোল-জিস্ট। মিডওয়াইফরা নবজাতককে পৃথিবীতে আসতে সহায়তা করেন। মাকে তাঁর সন্তান জন্মদান করাতে সহায়তা করেন। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে মিডওয়াইফের বিকল্প নাই। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ আশু পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার