ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে বীজ আলু বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার আলু চাষিদের কাছে বীজ আলু বিক্রি করেছে বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চল (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়)।
গত অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের মাধ্যমে চাষিদের কাছে বীজ আলুর জন্য ৩ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ৮ নভেম্বর বিকালে বীজপ্রাপ্ত চাষিদের তালিকা প্রকাশ করেন বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মজহারুল ইসলাম। আর ৮ নভেম্বর রাতে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগে ই-মেইল দেওয়া হয়, চাষিদের ৯ নভেম্বরের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে দিনাজপুর অফিসে জমা দেওয়ার কথা বলে। চাষিদের জন্য মাত্র এক দিন সময় দেওয়া হলেও বীজ ডিলারদের জন্য সময় দেওয়া হয় পাঁচ দিন। কৃষি বিভাগের খবর পাওয়ার পরে অধিকাংশ তালিকাভুক্ত চাষি টাকা পে-অর্ডার করতে পারেননি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুরের আলুচাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মজহারুল ইসলাম সাধারণ চাষিদের নামে বরাদ্দ দিয়ে এক দিন মাত্র সময় দিয়েছেন। যেন আমরা আলুর জন্য টাকা জমা দিতে না পারি। আমাদের বরাদ্দ আলু তিনি বেশি দামে অন্য জনের কাছে বিক্রি করবেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আলুচাষি আব্দুল গণি বলেন, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বিএডিসিতে বীজ আলুর জন্য আবেদন করেছিলাম। চাহিদা দিয়েছিলাম ২ হাজার কেজি আলু, বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ২০০ চল্লিশ কেজি। বাড়ি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অফিস, তাই ছেলেকে আলু নিতে পাঠিয়েছিলাম। বিএডিসির বিপণনের উপপরিচালক ছেলেকে আলু দেননি। তিনি বলেছেন, একজনের আলু অন্য জনকে দেওয়া যাবে না। অথচ একজন ডিলারকে ১০ জন ডিলারের আলু দিচ্ছে। টাকা দিয়ে আলু নিব বাবার আলু কেন ছেলেকে দেওয়া যাবে না? ডিলারদের কাছে আলু কিনতে গেলে তারা বলে আলু নেই। তা হলে কি আমরা আলু চাষ করতে পারব না?
বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মজহারুল ইসলামের কাছে চাষিদের জন্য এক দিন ও ডিলারদের জন্য পাঁচ দিন সময়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজের অনেক চাপ তাই বীজ বিক্রয় কমিটির সিদ্ধান্ত মতে চাষিদের ও বীজ ডিলারদের সময় দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা জমা দিতে পারেননি তাদের জন্য করার কিছুই নেই। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, যারা পরিশ্রম করে আলু উত্পাদন করে তাদের জন্য মাত্র এক দিন সময় দেওয়া হয়েছে যা ঠিক হয়নি। অনেক চাষি আলুবীজের টাকা পে-অর্ডার করতে পারেননি। বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগে কথা বলব যাতে কৃষকদের জন্য সময় বৃদ্ধি করা হয়।