যুবলীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু পরিবারের ৫ সদস্য

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সূর্যোদয় হয়েছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের হাত ধরে। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরের বছর বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি শুরু করেছিলেন যুবলীগের যাত্রা। সংগঠনটি নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একে একে অতিবাহিত করেছে ৪৯ বছর। দীর্ঘ সময় পর এবার পিতার সংগঠনে আসীন হয়েছে তাঁরই ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। শুধু পরশ নয়, বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরও ৪ তরুণের জায়গা হয়েছে এই কমিটিতে। যুবলীগের পুরানো ঐতিহ্য, সেই ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নতুন প্রজন্মের এই সদস্যদের প্রতি সকলের আস্থা ও প্রত্যাশা বেড়েছে বহুগুণ। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন আরফিন শরিয়ত  

পিতার চেয়ারে শেখ ফজলে শামস পরশ

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর পিতার হাতে গড়া সেই সংগঠনের চেয়ারম্যান হয়েছেন ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। পঁচাত্তর ট্রাজেডিতে বাবা-মাকে হারানো পরশ ধানমন্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে কলরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। শুধু শিক্ষকতা নয়, সংস্কৃতমনা পরশ সাংস্কৃতিক বিষয়াদি নিয়েও সচেতন বরাবরের মতোই।

তৃণমূলে তুমুল জনপ্রিয় নিক্সন চৌধুরী

যুবলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ২৭ সদস্যের সভাপতিমন্ডলীতে ৮ নম্বরে আছেন মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ তিনি। বঙ্গবন্ধুর বড় বোন ফাতেমা বেগমের নাতি তিনি। নিক্সনের বাবা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী মাদারীপুরের শিবচরের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার ভাই নূরে আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) এখন ওই আসনের সাংসদ।

২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফর উল্যাহকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নিক্সন চৌধুরী। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়, নিক্সন চৌধুরীর জনপ্রিয়তা। যুবলীগে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ আমাকে যুবলীগে অন্তর্ভুক্ত করায় আমি উনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। যুবলীগে অতীতের দুর্নাম মুছে সারা দেশের যুবলীগের ভাবমূর্তি ফেরানোর জন্য কাজ করে যাব।’

ব্যবসায়ীদের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম। ব্যবসা খাতের নেতৃত্বে রয়েছে তিনি। যুবলীগে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে। শেখ ফজলে শামস পরশের আপন চাচাতো ভাই তিনি। এই তরুণের হাতেই ব্যবসা খাতের নেতৃত্ব। তিনি ব্যবসায়ীদের সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি ইন অস্টিন থেকে লিবারেল আটর্স ইন পলিটিক্যাল ইকোনোমিতে স্নাতক করা শেখ ফজলে ফাহিম মাস্টার্স করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এছাড়াও কনফেডারেশন অব এশিয়া প্যাসেফিক চেম্বারস অব কামার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে।

ক্রীড়াপ্রেমী শেখ সোহেল

পিতা শেখ আবু নাসের ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী। উত্তরাধিকার হিসেবে পুত্র শেখ সোহেলও হয়েছেন এমনটি। ক্রীড়াপ্রেমী এ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি। তিনি এবার যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ সোহেল দীর্ঘদিন ধরে খুলনার যুব ও ছাত্ররাজনীতির নেপথ্যে থাকলেও কখনো প্রকাশ্যে তিনি রাজনীতির পদ-পদবীতে ছিলেন না। তবে এছাড়া গত মেয়াদে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)-এর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। খুলনাসহ সারাদেশেই তিনি একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

উদারতার জন্য পরিচিত শেখ ফজলে নাইম

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য তিনি। এছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট এই রাজনীতিবিদ। এলাকায় তিনি সবচেয়ে বেশী পরিচিত নিজের উদারতার জন্য। জনপ্রিয়ও হয়েছেন জনসাধারণের মধ্যে। করোনার শুরুতেই কয়েক ধাপে প্রায় ১৯ হাজার ও রমজানে আরও ৬ হাজার অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা। সাধারণ মানুষের দুর্দশার দিনে এগিয়ে আসা শেখ ফজলে নাইমের মতোই তরুণদের নেতৃত্বই চায় বর্তমান তরুণ সমাজ।