চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে বাদি হয়ে এ মামলা করেন মো. রহিম নামে এক ব্যবসায়ী। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে আগামী ৩ ডিসেম্বর আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করে। আসামিরা হলেন, কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান, এসআই আনিসুল ইসলাম, এএসআই খায়রুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও সোর্স দেলোয়ার হোসেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, রহিম গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় কাজ শেষে চর কালীগঞ্জ জেলাপরিষদ মার্কেট থেকে বাসায় ফিরছিলেন। রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চুনকুটিয়া ব্রিজের ওপর এলে অজ্ঞাতনামা তিন জন তার গতিরোধ করেন। তারা নিজেদের ঢাকা জেলার ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। রহিমের নামে ডিবিতে মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানায়।
পরে তারা রহিমকে একটি দোকানে নিয়ে তল্লাশি করেন। তবে তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। দোকানে উপস্থিত লোকজন রহিমকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তারপর তারা রহিমকে দোকান থেকে বাবু বাজার ব্রিজের কাছে নিয়ে যান। সেখানে এসআই আনিসুল ইসলাম, এএসআই খায়রুল ইসলাম ও সোর্স দেলোয়ার উপস্থিত ছিলেন। এই তিন জন নিজেদের কাছ থেকে ৬৫০ পিস ইয়াবা বের করে বলেন, এগুলো রহিমের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। আনিসুল ইসলাম বলেন, যদি ফাঁসতে না চাস তাহলে ২ লাখ টাকা জোগাড় কর। না হলে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেব। এ থেকে বাঁচার জন্য রহিম তার কাছে থাকা এক ভরি স্বর্ণের চেন, নগদ ১৩ হাজার টাকা তুলে দেন। দাবিকৃত ২ লাখ টাকা দিতে না পারায় তারা রহিমকে রাত সোয়া ৯টার দিকে থানায় নিয়ে যান। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রহিম তাদের ৫০ হাজার টাকা দেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ওসি মিজানুর রহমান রহিমকে ডেকে নেন। তাকে বলেন, তোকে বাঁচিয়ে দিলাম, ছোট মামলা দিলাম। দুই-এক দিনের মধ্যে বের হয়ে আসতে পারবি। মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, দাবিকৃত টাকা পেয়ে রহিমের বিরুদ্ধে ১০ পিস ইয়াবার মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান। ১৭ দিন জেলে থেকে ৩০ অক্টোবর মুক্তি পান রহিম।