বিষবাষ্পে বিপর্যস্ত পাশের জনবসতি
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকার ট্রাক টার্মিনালের অ্যাসিড সেডের পশ্চিম পাশে বড় আচড়া গ্রাম। এই গ্রামে বসবাসরত ৬৫টি পরিবারের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। আমদানিকৃত অ্যাসিড রাখা হচ্ছে খোলা মাঠে। অ্যাসিডের বাষ্পে দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। ব্যাহত হচ্ছে মানুষের বসবাস। সন্ধ্যা নামলেই পড়ার টেবিলে শিক্ষার্থীদের চোখ দিয়ে ঝরছে পানি। নষ্ট হচ্ছে বাড়িঘর। বৃষ্টির সময় অ্যাসিডের পানি ও মল-মূত্র একত্রে মিশে এলাকায় প্রবেশ করায় গৃহপালিত পশু-পাখি মারা যাচ্ছে অহরহ।
গ্রামর পাশেই ট্রাক ইয়ার্ড। সেখানে প্রতিনিয়ত আমদানিকৃত ভারী মালামাল ওঠানামার কাজ চলে। সেই সঙ্গে কাঁপতে থাকে বাড়িঘর। বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সীমানাসংলগ্ন প্রাচীর নির্মাণ করায় কার্যত আবদ্ধ হয়ে পড়েছের এখানে বসবাসকারীরা। বড় আচড়া গ্রামের বদরুল আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে বসবাস করছি বন্দি অবস্থায়। খোলা মাঠে বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যাসিড রাখায় এ এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমি কয়েক বার কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানালেও তারা কোনো জরুরি পদক্ষেপ নেয়নি। গ্রামের মহিদুল ইসলাম জানান, আমরা এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি নানা সমস্যার মধ্যে। একদিকে অ্যাসিডের বিষক্রিয়া, অন্যদিকে এখান থেকে কোনো রাস্তা না থাকায় আমরা যেন কারাগারে বন্দি। একজন লোক মারা গেলে লাশ বের করার রাস্তাটাও সংকীর্ণ। কলেজপড়ুয়া ছাত্র আল-আমিন ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তন্ময় জানান, আমরা বাড়িঘরে ঠিকমতো বসতে পারি না। পড়ার টেবিলে বসলেই দুই চোখ জ্বালা করে এবং পানি ঝরে অ্যাসিডের বিষক্রিয়ায়। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সিনিয়র সভাপতি আমিনুল ইসলাম (আনু হাজি) জানান, এই এলাকাটা যদি বন্দর কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করে নেয় তবে ৬৫টি পরিবারের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে। বাড়বে বন্দরের সৌন্দর্য। তাছাড়া বন্দরের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, এলাকাবাসীর সমস্যা ও অভিযোগ আমরা ইতিমধ্যে আবেদনের মাধ্যমে পেয়েছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।