জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ‘আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর শ্রম ও ত্যাগের ফল। তাকে আমাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হবে। যতদিন বাঙালি জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর নামও চিরজাগরুক হয়ে থাকবে। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি রক্ষায় আমাদের তার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। তার স্মৃতি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’
তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অডিটরিয়ামে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ভাণ্ডারিয়ায় একটি সড়কের নতুন নামকরণের সুযোগ এ এলাকার মানুষের জন্য অতি সৌভাগ্যের, বাঙালি জাতির জীবনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তির দূত। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশ না হলে আমরা যে উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছি তা অধরা থাকত, উন্নয়ন সাধিত হতো না। তাই স্বাধীনতার সুফলকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। স্বাধীন দেশের মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পাকিস্তান বা ব্রিটিশ আমলের মতো আচরণ কাম্য নয়। তাদের স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মতো সাহসের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সবাইকে পরাধীন আমলের মানসিকতা পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়।
তিনি বলেন, নিজের কাজটা সঠিকভাবে সম্পন্ন করা আবশ্যক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা আমাদের কাছে যথাযথ চাহিদা সময় মতো ব্যক্ত করা না হলে এলাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা যায় না। তিনি আরো বলেন, ভাণ্ডারিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আমরা ৩৬ বছর ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এসেছি। আমাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে এ সময়কালে ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বঞ্চিত বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেনি। আমরা সোচ্চারভাবে আমাদের দাবি-দাওয়া পেশ করে ন্যায্য পাওনা আদায় করে আসছি। এ ক্ষেত্রে সব সময় আমি বলেছি, ভাণ্ডারিয়া তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল, আছে এবং থাকবে। এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সমন্বয় থাকলে মানুষ তার অধিকার ভোগ করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরো বলেন, সরকারে যেই থাকুক আমাদের ন্যায্য পাওনা আমরা বুঝে নেই। আমাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রশ্নে আমরা দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী। আমাদের সঙ্গে আল্লাহতায়ালার রহমত ও মানুষের সমর্থন রয়েছে।
ভাণ্ডারিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মত্স্য বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য বিষয়ক কর্মকর্তা এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলমের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আকতার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে ধাওয়ার সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুরের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়ার খান এনামুল করিম পান্না, তেলিখালীর মো. শামসুদ্দিন প্রমুখ।
এ সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আজিজ সিকদার প্রমুখ।
গতকাল ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য জিন এক্সপার্ট মেশিন স্থাপন করা হয়েছে, যা ভাণ্ডারিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের করোনা ও যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর পরীক্ষা একই সঙ্গে করা যাবে। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে করোনার প্রথম ঢেউ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা গেছে। চলতি শীতে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার জন্য আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক।
এ দুটি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. কামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী বদরুল আলম, আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোমা রানী সরকার, সমাজ সেবা কর্মকর্তা ভবানী শংকর বল প্রমুখ।
জাতীয় ছাত্র সমাজের কর্মী সভায় অংশগ্রহণ
জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল বিকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির কার্যালয় চত্বরে এক ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের কথা নতুন কিছু নয়। ভাণ্ডারিয়ার অবকাঠামোর যা প্রয়োজন ছিল এবং সামান্য কিছু যা বাকি আছে গ্রামাঞ্চলে বা উপজেলা সদরের বাইরে তা সম্পন্ন করতে আমরা সচেষ্ট থাকব।
তিনি বলেন, এই ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্য হবে মাস্তানি-গুন্ডামি-ষণ্ডামি-মারপিট মুক্ত থেকে লেখাপড়া করে আদর্শ জীবন গড়ে তোলা। আমরা জানি, আমাদের গ্রামের সমাজব্যবস্থা এখন পর্যন্ত আধা সামন্তবাদী। বিদ্যমান সমস্যার মধ্যে থেকেও তোমাদের বড় হতে হবে। এই ভাণ্ডারিয়ার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে পূর্বের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন যদি তোমরা লেখাপড়া না করো তাহলে এ উন্নয়নের কোনো মানে নেই। বাংলাদেশের মধ্যে যতগুলো উপজেলা আছে তার মধ্যে ভাণ্ডারিয়া অন্যতম। রাজনীতি আমরা করি কিন্তু কাজের সময়ে আমরা এক থাকি। এই যে ভাণ্ডারিয়ার বৈশিষ্ট্য এটা ধরে রাখতে হবে। এখন ৭০-৮০ ভাগ ছেলেমেয়ে বিদ্যুতের আলোয় লেখাপড়া করছে। ছাত্র রাজনীতি করতে হলে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। আমার মূল বক্তব্য হলো জাতীয় ছাত্র সমাজকে সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। ভাণ্ডারিয়ায় আমি ৩৬ বছর আছি। কেউ বলতে পারবে না আমি কখনো মানুষের ক্ষতি করেছি। ছাত্র সমাজ মানে একটি সুশৃঙ্খল, ছাত্র মানে ভালো ছাত্র, যার দ্বারা দেশ ও মানুষের উপকার হবে।
তিনি আরো বলেন, ঈর্ষা আমাদের ধর্মে নেই, অন্যের যা আছে তার জন্য আমরা ঈর্ষান্বিত হব না। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমার শ্রমকে আমি বৃথা যেতে দেব না। তাই পরিশ্রম করো।’ সামাজিক বা ধর্মীয় কারণে সমস্যা থাকবে তার মধ্য থেকেই আমাদের চলতে হবে। তোমাদের উদ্দেশে আমার একটাই কথা সেটা হলো—তোমরা এক থাকবে। আশু দ্বিতীয় ঢেউ করোনা সংক্রমণ রোধে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের না হওয়া, সবার মাক্স ব্যবহার এবং ঘন ঘন হাত ধোয়ার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক সালাহ্ উদ্দিন রাহাত জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবসংহতির সদস্যসচিব মো. মামুনুর রশিদ সরদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌর যুব সংহতির নেতা আব্দুস সোবাহান বাচ্চু।
এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জাতীয় পার্টি-জেপির মহিলা পার্টির উপজেলা সভানেত্রী ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আখতার, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. হায়দার আলী হাওলাদার, মো. কায়সারুল ইসলাম মালকার, উপজেলা জেপি নেতা মো. শহীদুল আলম খোকন সিকদার, শাহারিয়ার হোসেন দুলাল মল্লিক, পৌর জেপির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন স্বপন মিয়া, সদস্যসচিব আহসান কিবরিয়া ফরিদ মল্লিক, উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য মো. রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, উপজেলা ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব জহির উদ্দিন অন্তু সরদার, পৌর ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রাজু, সদস্যসচিব মাহাবুব শরীফ শুভ প্রমুখ।