সিঙ্গাপুরে বার্ডস থিয়েটারের উদ্যোগে ৪ বছর ধরে এশিয়ার বিভিন্ন নাটকের দলগুলোকে নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে ‘এশিয়ান ইয়ুথ থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল’। গতকাল থেকে ৪ দিনের এই উত্সব শুরু হয়েছে। তবে এবার করোনা মহামারির কারণে আয়োজন করা হয় অনলাইনের মাধ্যমে। জুম সফটওয়্যারের এই উত্সবে অংশগ্রহণ করবে প্রতিটি দল। বিগত ৩ বছর প্রাচ্যনাট এই ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারো এই ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেছে প্রাচ্যনাট। সিংঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশসহ মোট ১০টি দেশের থিয়েটার গ্রুপ এই ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করছে। এবারের ফেস্টিভ্যালের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মানব সংযোগ’। প্রাচ্যনাট পরিবেশন করবে আজাদ আবুল কালামের ভাবনায় এবং সাইফুল ইসলাম জার্নালের নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় নাটক ‘নীল পুরুষ’। আজ মঞ্চায়িত হবে প্রাচ্যনাটের এই নাটকটি।
একজন লোক তার বাব-মায়ের কাছে একটি চিঠি লিখছে। সে একটা বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল। সে যখন একটু বড় হয় তখন দেখা যায় যে সে বর্ণান্ধ। তারপর বড় হয়ে সে আমেরিকায় গিয়ে সবার কাছে দৃষ্টি আকর্ষণের মানুষ হয়, যেহেতু তার গায়ের রঙ নীল। কিন্তু নানা বর্ণের মানুষ তার কাছে একই মনে হয়, যেহেতু সে রঙের পার্থক্য করতে পারে না। সে সময় আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার আন্দোলন চলছে। সে যোগ দেয় কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদের মিছিলে। আবার কৃষ্ণাঙ্গরা যখন দোকানপাট লুট করছে, সম্পদ নষ্ট করছে তার প্রতিবাদে শেতাঙ্গরা মিছিল করছে সেই মিছিলেও যোগ দেয় সে। নীল পুরুষ সবার সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করলেও কৃষ্ণাঙ্গ কী শেতাঙ্গ, কেউই তাকে তাদের মনে করে দলে সংযুক্ত হতে দেয় না তার নীল রঙের শরীরের জন্য। তারা যুক্তি দেয় যে না সে তামাটে না কৃষ্ণাঙ্গ না শেতাঙ্গ! কিন্তু সে এই হিসাব মেলাতে পারে না। তার মতে, সে তো এই পার্থক্য করতে পারে না, তার কাছে সবার গায়ের রঙ একই মনে হয়, সবাই সমান। এই সময়ে বিভ্রান্তিতে জর্জরিত সে তার বাবা-মাকে চিঠি লেখে যে, যেহেতু সে বর্ণান্ধ সেহেতু সে রঙের পার্থক্যটা করতে পারে না। কিন্তু চুল ও শারীরিক গঠন দেখে সে বুঝতে পারে যে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ আছে। সব শেষে নীল পুরুষ তার বাবা-মাকে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করে যে, সে আসলে কোন দলের মানুষ? সে আসলে কাদের?