আদর্শ সন্তান গঠনে মায়ের ভূমিকা

পৃথিবীর সব সন্তানের কাছে ‘মা’ শব্দটি যেমন সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম, তেমনি সবচেয়ে পবিত্র ও মধুময়। সন্তানের জীবনের চরম সংকটকালে পরম সান্ত্বনা ও ভরসার স্থল হিসেবে যার কথা প্রথম মনে পড়ে তিনি মমতাময়ী মা। পারিবারিক জীবনে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান গর্ভে ধারণ ও লালনপালনের সামগ্রিক দায়িত্ব মায়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই ইসলাম একজন মাকে আদর্শ জননী হওয়ার প্রতি মনোযোগী হতে বলেছে। আল কুরআনে সুরা লোকমানের ১৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—‘মা সন্তানকে অতি কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেন এবং প্রসব করেন।’

সন্তানের সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক নিবিড় হওয়া উচিত। আদর্শ পরিবারে মাকে সন্তান যেমন শ্রদ্ধা-সম্মানের চোখে দেখবে, তেমনি মায়েরও উচিত সন্তানের ব্যক্তিত্বের প্রতি লক্ষ রাখা। মা সন্তানদের সহিহ্ আকিদা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়ে শিক্ষা দেবেন। মা ছেলেমেয়েদের উপস্থিতিতে কখনো স্বামীর সঙ্গে তর্কবিতর্ক করবেন না। মাঝেমধ্যে সন্তানদের নিয়ে চরিত্রগঠনমূলক সত্য কাহিনির মাধ্যমে গল্প করবেন। তাদের ছোটবেলা থেকেই সত্ উপার্জনের প্রতি উত্সাহী করে তুলবেন, সর্বদা সত্যের ওপর চলার শিক্ষা দেবেন।

সন্তানের সব সংগতি-অসংগতির ব্যাপারে প্রথমত মা-ই দায়ী। ফলে সন্তানের পরিশুদ্ধি, ধর্মের অনুশীলন ইত্যাদি বিষয়ে প্রথমে মাকে পরিশুদ্ধ হতে হবে। মা যদি ইসলামি অনুশাসনের ব্যাপারে উদাসীন হন, তাহলে সন্তান কিছুতেই এ ব্যাপারে মায়ের নির্দেশ মানবে না। তাই মায়ের মধ্যে ধর্মীয় কোনো ত্রুটি থাকলে তা আগে তিনি দূর করে নেবেন। সন্তানের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা মায়ের কর্তব্য। তাদের সঙ্গে আচার-আচরণ, কথাবার্তা, চলাফেরায় সচেতন ও সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। মাকে সন্তানের মন-মানসিকতা বুঝতে হবে। তাদের চাহিদাগুলো পূরণের ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ছোট্ট বয়স থেকে আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া মা-বাবার কর্তব্য। মহানবি মোহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (স) বলেন—‘সন্তানকে সুশিক্ষা বা আদব-আখলাক শিক্ষা দান করাই সন্তানের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।’

সমাজের প্রাণকেন্দ্র হলো পরিবার। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবার হচ্ছে একটি উত্তম সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত নামাজ ও ইসলামের নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি সন্তানকে প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করার নির্দেশ করতে হবে। সন্তানকে শিক্ষা দিতে হবে—সে যদি কারো সঙ্গে কোনো ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা যেন সে পালন করে। অল্প বয়স্ক সন্তান যদি না বুঝে কোনো ভুল কাজ করে ফেলে তাহলে তাকে তিরস্কার করা ঠিক হবে না। তাকে বুঝিয়ে আদরের সঙ্গে বলতে হবে, সে যে কাজ করেছে তা ঠিক নয়। শিশুকে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করুন, যাতে সে আরো উত্সাহী হয়ে ওঠে। তবে অন্যায় কিছুর প্রতি তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এভাবেই একজন মা সন্তানের উত্তম আদর্শ ও চরিত্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন।

lলেখক :ইসলামি গবেষক