জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ‘আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতার সদ্ব্যবহার করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মানুষের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পায়—এই পরিবর্তনের দিকে খেয়াল করে তাদের জন্য নতুন নতুন চিন্তা করতে হয়। গ্রহণ করতে হয় সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা। আর এই কর্মপরিকল্পনাকে ভিত্তি করেই পরিচালিত হয় উন্নয়নকাজ।’
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত এক জনাকীর্ণ কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, ‘৩৬ বছর আগে আমি যখন ভাণ্ডারিয়ায় প্রথম আসি, তখন থেকে আজ পর্যন্ত পাঁচ জন ইউনিয়নপরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই গৌরীপুর ইউনিয়নে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। তখন প্রথম যে চেয়ারম্যান ছিলেন, তার দাবি ছিল একটি মাটির সরু রাস্তার। সেদিনের পর থেকে এই ইউনিয়নে আজ পর্যন্ত মাইলের পর মাইল রাস্তা, অগণিত কালভার্ট-ব্রিজ, অসংখ্য পাকা স্কুল ভবন, বহু নলকূপ, শতাধিক কিলোমিটার বিদ্যুত্ লাইন এখানেই নির্মাণ করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে আমার মায়ের জীবদ্দশায় আমাদের গ্রামের বাড়ি ভাণ্ডারিয়ায় তিনি একটু বিদ্যুত্ চেয়েছিলেন। তখন আমি এরশাদ সরকারের বিদ্যুত্মন্ত্রী ছিলাম। আমার মায়ের সেই আদেশ তখন পূরণ করেছি। আজ ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। আমার মায়ের মতো ইতিমধ্যে ভাণ্ডারিয়ার সব ঘরের মায়েরা বিদ্যুত্ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এখানে একটি বিদ্যুত্ গ্রিড স্টেশন ও দুটি সাবস্টেশন নির্মিত হয়েছে, যেখান থেকে সন্নিহিত এলাকার পাঁচ-ছয়টি উপজেলায়ও বিদ্যুত্ যাচ্ছে। এটা যেমন আল্লাহর রহমত, তেমনি গত ৩৫-৩৬ বছর ধরে এখানকার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সঙ্গে আছেন বলেই এলাকাবাসী এই উন্নয়নের স্বাদ পাচ্ছেন। এই সময়কালে আমরা শুধুই পোনা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ করতে সক্ষম হইনি, দুই দফায় বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে তার স্থলে বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভাণ্ডারিয়া-পিরোজপুর সড়কের ৪৩তম কিলোমিটারে এই পোনা নদীর ওপর বর্তমানে ২০০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্ত করে আনা হয়েছে। আজ থেকে আড়াই বছর আগে সরকারের তত্কালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিম ভাণ্ডারিয়ায় এসে ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজ তার নির্মাণকাজও সমাপ্তির পথে। এভাবে ভাণ্ডারিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতেও অতীতের মতো এই ধারা বাজায় থাকবে। আমরা দলমত-নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে কাজ করি বলে আমাদের কেউ বঞ্চিত করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আমি ৩৬ বছর ধরে আছি। আল্লাহ যত দিন চাইবেন, তত দিন পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে একত্রে থাকতে চাই। আজকের এই জাতীয় পার্টি-জেপির কর্মিসভায় উপস্থিত শত শত কর্মী-সমর্থকই হচ্ছে আমার শক্তি। পাশাপাশি আল্লাহর রহমত ও জনগণের সমর্থনকে পাথেয় করেই আমার পথচলা। তাই আমরা আমাদের সংগঠনকে একটু ভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্যে গড়ে তুলেছি। আর তা হচ্ছে আমাদের কর্মীরা হবে নির্লোভ, নিবেদিত, জনবান্ধব ও ত্যাগী। যারা নিজের চেয়ে মানুষের কল্যাণে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাতে আমাদের দলের প্রার্থীরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে, তার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনব্যবস্থায় যাতে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে, তার প্রতিও সবাইকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে, ইমানের সঙ্গে কাজ করি। যারা আল্লাহর নিয়ামত খান, তাদের আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ বছর ধরে যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের সেবা করতে পারছেন, তা আল্লাহর রহমতে। আমি একবার ফ্রান্সের প্যারিসে সে দেশের পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার সময় তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, একজন ব্যক্তি কী করে ১৮ বছর মন্ত্রিত্ব করতে পারেন? এ সবই আল্লাহর ইচ্ছা আর জনগণের সমর্থনে আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে।’ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমি কখনো হতাশ হই না। আল্লাহ বলেছেন, যদি কেউ মোমিন হয় সে হতাশ হতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের চাহিদার শেষ নাই। ৫০ বছর স্বাধীনতার বয়স। এখনো মানুষের বহু প্রয়োজনীয় কাজ বাকি রয়েছে। তারা দেড় লাখ টাকার ঘর চায়। বাসস্থান হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা। এ ধরনের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য আমি গত ৩৬ বছরে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক নেতাদের পরামর্শে এলাকায় কাজ করে চলেছি। আমার আহ্বান, আপনারা কাইজ্জা করবেন না, ঝগড়া-বিবাদ করবেন না। আমাদের ধর্মে অন্যের গিবত করা বারণ রয়েছে। যার যার সমস্যা নিজেদেরই নিরসন করতে হবে। আপনারা ভালো থাকুন, সুখে থাকুন, শান্তিতে থাকুন এটাই আমার কায়মনোবাক্যে কামনা।’
গৌরীপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ভাণ্ডারিয়ার পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. হায়দার আলী হাওলাদার, জেপি নেতা নজরুল ইসলাম মিলন তালুকদার, সুজন তালুকদার প্রমুখ।