চট্টগ্রাম বন্দরের তিন কর্মীসহ গ্রেফতার ৬

নিলামের গাড়ি বিক্রির কথা বলে প্রতারণা করার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের তিন নিরাপত্তা কর্মীসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, নুরুল আবসার, রুহুল আমিন, মো. ইউসুফ, মহিদুল ইসলাম, মোবারক হোসেন সুমন ও সানোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে নুরুল আবসার চট্টগ্রাম বন্দরের স্থায়ী কর্মচারি। তিনি বন্দরের গাড়ি শেডে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে নিয়োজিত। এছাড়া রুহুল আমিন ও মো. ইউসুফও একই শেডে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষী। 

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ ইত্তেফাককে বলেন, মো. শাহিনূর রহমান হালিম নামে মানিকগঞ্জের এক রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী একটি মাইক্রোবাস কেনার জন্য রুবেল নামে তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। রুবেল তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামের গাড়ি কেনার পরামর্শ দেয় এবং মোবারক হোসেন সুমন নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। সুমন হালিমকে জানায়, তার মামা মহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম কাস্টমসের একজন সহকারী কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ)। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে কম দামে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাড়ি কেনা যাবে।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৮ জানুয়ারি সুমন হালিমকে নিয়ে চট্টগ্রামে এসে তার কথিত মামা মহিদুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর মহিদুল কথিত সহকারী কাস্টমস কমিশনার সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে হালিমকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর সানোয়ার ও মহিদুল বন্দরের তিন নিরাপত্তা রক্ষী ইউসুফ, নুরুল আবসার ও রুহুল আমিনের মাধ্যমে হালিমের এক বন্ধুকে চট্টগ্রাম বন্দরের গাড়ি শেডের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি ‘নোয়াহ’ মাইক্রোবাস দেখিয়ে আনে যার দাম ঠিক হয় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই ঘটনার চার দিন পর ১২ জানুয়ারি গাড়ি ডেলিভারি নেওয়ার জন্য হালিমকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের পেছনে নিয়ে যায় সুমন। সেখানে আগে থেকে একটি প্রাইভেট কারে বসা ছিলেন সানোয়ার। ঐ গাড়িতে বসেই হালিম সানোয়ারের হাতে গাড়ির দাম বুঝিয়ে দেন। টাকা হাতে নিয়ে সানোয়ার জানান, গাড়ির কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর গেট দিয়ে বের হবে। এরপর হালিমকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রেখে সুমন ও সানোয়ার প্রাইভেটকারে করে সেখান থেকে চলে যান। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার পর হালিম বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। পরে তিনি বন্দর থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ আরো জানান, গাড়ি বিক্রির কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে হালিমের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা ভাগাভাগি হয় নগরীর জুবিলী রোডের আল ফয়সাল হোটেলে। যার মধ্যে সুমন নেয় ২ লাখ টাকা, মহিদুল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং বাকি টাকা নেয় সানোয়ার। এর আগে হালিমের কাছ থেকে নিলামের কথা বলে ৩৩ হাজার টাকা এবং বন্দর শেডে গাড়ি দেখানোর খরচ বাবদ আরো ৪৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এই ৪৬ হাজার টাকা পায় বন্দরের তিন নিরাপত্তা রক্ষী ইউসুফ, নুরুল আবসার ও রুহুল আমিন। 

শাহনেওয়াজ বলেন, সানোয়ার এবং মহিদুল কেউই কাস্টমসে চাকরি করেন না। তারা মূলত বন্দর কেন্দ্রিক প্রতারক। এই চক্রের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের স্থায়ী-অস্থায়ী তিন কর্মচারীও রয়েছে।