নওগাঁয় নৈশপ্রহরীকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা

নওগাঁ সদরে পরকীয়া সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন ছকু নামের এক নৈশপ্রহরীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হাঁড়িয়াগাছি গ্রামে। অভিযুক্ত দিলদার হোসেনসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন। দুই সন্তানের জনক নিহত তোফাজ্জল হোসেন ছকু গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে এবং হাঁড়িয়াগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন।

জানা গেছে, তোফাজ্জলের সঙ্গে একই গ্রামের দিলদার হোসেনের স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দিলদারসহ তার পরিবারের লোকজন সন্দেহ করছিল। এই সন্দেহের জেরে ঘটনার রাতে দিলদার হোসেন ও তার লোকজন তোফাজ্জলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এরপর রাত ১১টা পর্যন্ত লাঠিসোঁটা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে পেটানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে চুরির আভিযোগ এনে নওগাঁ সদর থানার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালে চিকিত্সা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরিবারের লোকজন তোফাজ্জলকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতে প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করে। পরদিন গভীর রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  

নিহতের বাবা মোজাম্মেল হক জানান, তার ছেলের সঙ্গে ঐ নারীর কোনো সম্পর্ক ছিল না। পূর্ববিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দিলদার হোসেন, সোহেল রানা, পরাগ, আরিফ ও সেলিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দি হোসেন জানান, এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ। এ ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।