বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনেও করোনার প্রভাবে জোরেশোরেই ধাক্কা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে সেই ধাক্কা সামলাতে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে চীনারা। ইতিমধ্যেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনেছে তারা। ওয়াল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী করোনায় আক্রান্তের হারে বিশ্বের মধ্যে তাদের অবস্থান ৬৫। এছাড়াও সেখানে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৪৬৩৪ জন। যা দেখে বুঝায় যাচ্ছে বিশ্বের জনবহুল দেশ চীন করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই মোকাবিলা করে স্বাভাবিক গতি ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। এবার অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
জানা যায় চীনের স্টেট কাউন্সিল বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কিছু পরিকল্পনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহামারির কারণে বছরের মাঝামাঝি এসে চীনে মোট খুচরাপণ্য বিক্রি কিছুটা কমলেও শেষের দিকে আবারও তা বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবারের অক্টোবরে দেশটিতে মোট খুচরাপণ্য বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
নতুন পরিকল্পনায় চীনের গ্রামাঞ্চলে গাড়ি কিনতে ক্রেতাদের উত্সাহিত করা হবে এবং পুরোনো গাড়ি বদলে নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হবে। বিভিন্ন স্থানে পার্কিং লট এবং চার্জিং পাইল (ইলেক্ট্রিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার জায়গা) নির্মাণ বাড়ানো হবে। যে সব অঞ্চলে অনুমতি রয়েছে, সেখানে পুরোনো স্থাপনাগুলোর জন্য গ্রিন স্মার্ট প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব আসবাবপত্র কেনায় ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে। পরিবেশন খাতে সেবাদাতাদের মেন্যু উন্নত করা বা এতে বৈচিত্র্য আনতে উত্সাহিত করা হবে। পাশাপাশি, সেবার মানও বাড়ানো হবে। চীনের বিভিন্ন কাউন্টি, গ্রাম ও উপশহরগুলোতে ব্যবসায়িক স্থাপনা নির্মাণে আরো গতি আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় বাজারগুলোতে ভুয়া বা নিম্নমানের পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্যে কিছুটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট প্লাস ট্যুরিজমে। দেশটির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ইলেকট্রনিক মানচিত্র, অডিও গাইডের মতো অত্যাধুনিক সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ডিজিটাল এক্সিবিশন ভেন্যু তৈরিতেও উত্সাহিত করছে চীন সরকার।