অবৈধ স্পিডবোট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে যমুনা

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

আরিচা-কাজীরহাট নৌ-রুটে অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চালানো হচ্ছে অবৈধ স্পিডবোট। এক মাস আগে শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে রুট পারমিট ছাড়া স্পিডবোট চালানো বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার পরও স্পিডবোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। বন্ধ হয়নি স্পিডবোট চালানো। এমন অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তাতেও কাজ না হলে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত পাঁচ বছর যাবত্ অনুমোদন না নিয়েই অবৈধভাবে এ ব্যবসা পরিচালনা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাছাড়া নিয়মনীতি না থাকায় বেপরোয়াগতিতে যমুনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এর কথিত চালকরা। যাদের নেই কোনো লাইসেন্স বা যথাযথ প্রশিক্ষণ। অনুমোদিত নৌযানের আকারভেদে আরোহীদের জীবন রক্ষায় নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইফ জ্যাকেট রাখার বিধান থাকলেও অবৈধ এসব নৌযানের অধিকাংশেরই এর বালাই নেই। কিছু বোটে তা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। আর সে কারণে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।

এর আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে স্পিডবোট নিবন্ধনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে ‘নিবন্ধন সপ্তাহ’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আরিচাঘাট এলাকার স্পিডবোট মালিকদের নিবন্ধনের তাগিদ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তা মোটেই ভ্রুক্ষেপ করছেন না বোটমালিকরা।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম রুহুল আমিন রিমন বলেন, এক মাস আগে আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে লিখিতভাবে সাত দিনের মধ্যে অবৈধ স্পিডবোট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এক মাস অতিবাহিত হলেও চিঠির কোনো উত্তর না দিয়ে পূর্বের ন্যায় তারা অবৈধভাবে স্পিডবোট পরিচালনা করছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় লিখিতভাবে স্পিডবোট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে। এতেও কাজ না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।