মিরসরাইয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন হুমকির মুখে ফসলি জমি

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ও করেরহাট ইউনিয়নে ফেনী নদীর তীর সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী পাড়ের শত শত একর তিন ফসলি কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কৃষিজমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে ঐ এলাকার কৃষকরা। এছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। গত দুই বছরে মিরসরাই উপজেলার সীমানায় ফেনী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা একাধিক অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নগদ অর্থদণ্ডসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কিছুদিন পরে আবার শুরু হয় অবৈধ বালু উত্তোলন। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে প্রভাবশালী মহল থেকে তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইজারা নেওয়া ছাড়া উপজেলার হিঙ্গুল ইউনিয়নের মধ্যম আজম নগর হিঙ্গুল খাল ও ফেনী নদীর সংযোগ স্থলে, চর তুলতলি, পশ্চিম জোয়ার, ধুমঘাট ব্রিজ সংলগ্ন বালু মহাল, মোল্লাঘাট ও গনকছড়া এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। হিঙ্গুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন হারুন বলেন, মধ্যম আজম নগরের ঐ স্থানে নাজমুল নামের এক ব্যক্তি বালু উত্তোলন করেন। জমির মালিকারা যদি বালু উত্তোলনকারীদের কাছে তাদের জমি বিক্রি না করে তাহলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে।

মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা বলেন, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেসব জায়গায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং যেসব স্থানে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সেসব স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।