শ্রমিক লীগ সভাপতি ফজলুল হক মন্টু আর নেই

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু আর নেই। গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের রেখে গেছেন। ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নির্বাচিত ফজলুল হক মন্টু। এর আগে তিনি সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। শ্রমিক লীগ সভাপতির নামাজে জানাজা গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে রায়ের বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

পায়ে ব্যথা নিয়ে গত ২৩ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হন মন্টু। এরপর তার শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে সংক্রমণ থেকে মুক্তও হয়েছিলেন তিনি। তবে ফুসফুসের জটিলতার কারণে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে আর সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারেননি তিনি। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ফজলুল হক মন্টুর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

ফজলুল হক মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস্ পরশ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম প্রমুখ। পৃথক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্রেড ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে জড়িয়ে ছিলেন ফজলুল হক মন্টু। ১৯৬৯-৭০ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাবনা জেলা মুজিববাহিনীরও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জাতীয় শ্রমিক লীগেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে ছিলেন মন্টু। পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান কমিটির আগের কমিটিতে তিনি ছিলেন কার্যকরী সভাপতি। সবশেষ গত বছরের ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগের কাউন্সিলে তাকে বর্তমান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জেপির শোক

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, ফজলুল হক মন্টু ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাবনা জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারাল। জেপি নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর শোক

ফজলুল হক মন্টুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। মন্টু এই প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। বিলস পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সিরাজ এবং মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, তার মৃত্যুতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ফজলুল হক মন্টু সারাজীবন মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। এছাড়া শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন (বিএমএসএফ) এবং বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন (বিএলএফ)।