ফসলহানির শঙ্কায় দিশেহারা চাষি
শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
শরণখোলায় আমনের খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ধানখেত বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। ফসলহানির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের চাষি আকব্বর খান জানান, তার ৪০ বিঘা জমি এখন পোকার দখলে। দক্ষিণ রাজাপুরের চাষি নজরুল গাজী বলেন, তার ২০ বিঘা এবং উত্তর তাফালবাড়ী গ্রামের বাদল সরদার জানান, তার পাঁচ বিঘা জমির একই অবস্থা। উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের চাষি মিলন আকন, মানিক আকন, রফিকুল আকন বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে চাষের কাজে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার তারা কোনো ফসল ঘরে নিতে পারবে বলে মনে হয় না। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ফসলের মাঠে কীটনাশক দিয়েও লাভ হচ্ছে না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধানখেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে এবার ৫ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন ধান চাষ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও পানি নেমে যাওয়ার পরই প্রায় সর্বত্র কারেন্ট নামের এক বিশেষ পোকার প্রকোপ দেখা দেয়। উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলাশ কান্তি রায় বলেন, খুব দ্রুত ধানখেত ধ্বংস করে দেয় বলে পোকাটির নাম দেওয়া হয়েছে কারেন্ট পোকা। তবে তিনি এই পোকা দমনে প্লেনাম, একতারা ও পায়রাজিন নামের কীটনাশক ব্যবহারের জন্য চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, কারেন্ট পোকা দমনের জন্য চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াসহ মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, কারেন্ট পোকা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।