পার্টটাইম জবটা হচ্ছে এমন একটি জব আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হন যার নিজের হাত খরচের টাকা দরকার, কিংবা আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য বর্তমান বেতনের পাশাপাশি বাড়তি কিছু ইনকাম প্রয়োজন অথবা শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে পার্টটাইম জবের কোনো বিকল্প নেই। এটাতে ফুলটাইম জবের মতো বড় অঙ্কের বেতন নেই কিন্তু এটি অবশ্যই আপনাকে বাড়তি সহযোগিতা করতে পারে।
এবার মূল কথাই আসি, বাংলাদেশের শিক্ষানীতি বলুন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম অথবা সময়ের ক্লাস সময়ে না নিয়ে কোনটি সকালে, কোনটি দুপুরে আবার কোনটি বিকালে নেওয়ার যে প্রবণতা সেক্ষেত্রে কোনো স্টুডেন্ট তার টিউশনটিই নিয়মমাফিক করতে পারে না।
কিন্তু আবার দেখুন, যখন কোনো স্টুডেন্ট সদ্য গ্র্যাজুয়েট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় লাইফ শেষ করে চাকরির জন্য আবেদন করে তখন যোগ্যতায় তিন থেকে চার বছরের অভিজ্ঞতা চেয়ে থাকেন। প্রশ্ন হলো এই অভিজ্ঞতা একজন ফ্রেশার বা একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছেলে বা মেয়ে কোথা থেকে অর্জন করবে। যেখানে ইউরোপীয় বা আমেরিকান কান্ট্রিগুলোর মতো আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি জবের কোনো সুযোগ পাচ্ছি না।
বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ রয়েছে। এমনকি সুবিধাবঞ্চিত, গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ‘শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন’ ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজড করার জন্য ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করা হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটালাইলড সেন্টার, দেশের অন্যতম ওয়েব পোর্টাল, ৪ জি প্রযুক্তি মোবাইল নেটওয়ার্কিং বাণিজ্যিক কার্যক্রমসহ দেশের সবকটি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়।
কিন্তু দেশ তখনই ডিজিটালাইজড হবে যখন দেশ শিক্ষা, গবেষণা, অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তরুণ সমাজ তাদের বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশকে করতে পারে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত। কিন্তু বাংলাদেশে এখন অবধি এই প্ল্যাটফরম গড়ে উঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টরা যদি পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম জবের কোনো প্ল্যাটফরম পেত তাহলে তারা অনায়াসে অভিজ্ঞতা অর্জনসহ আর্থিক দিক থেকে লাভবান হতে পারত।
এভাবে দেশ এবং দশের দুটোর মঙ্গলই সাধন হতো কেননা এতে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পেত, চাকরির যোগ্যতার তিন থেকে চার বছরের অভিজ্ঞতার ঘরটি ফিলাপ করতে পারত।
তরুণদের নতুন সব ভাবনা এবং অবলোকন সংশ্লিষ্ট হতো যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেত স্বর্ণশিখরে।
একজন ফ্রেশারস বা সদ্য গ্র্যাজুয়েট যে কোনো স্টুডেন্টের অভিজ্ঞতা অর্জনে একটি নতুন প্ল্যাটফরম হতে পারে পার্টটাইম জব। যা শুধু অভিজ্ঞতায় নয়, তরুণ সমাজকে করতে পারে গতিশীল।
একটি দেশের তরুণ সমাজ যখন মোবিলাইজড হবে, তখন সে দেশকে ডিজিটালাইজড করতে আর কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়