বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে পালটাপালটি ধাওয়ার সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল সকালে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভা শুরু হলে বর্ধিত সভা ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেলকুচির মেয়র পদপ্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজার সমর্থক এবং বর্তমান মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে আওয়ামী লীগের নেতা কালাম, শ্রমিক লীগের নেতা হাফিজুর, ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা রফিকুল, শফিকুল, লিখন, ফেরদৌসসহ ১০ জন আহত হন।
?প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বেলা ১১টায় বর্ধিত সভা শুরু হয়। এ সময় বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে বেলকুচির মেয়র আশানুর বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল যখন সভার দিকে যাচ্ছিল, তখন বেলকুচির মেয়র পদপ্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজার সমর্থকেরা রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আশানুর ও সাজ্জাদুল সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ধাওয়া ও পালটা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বর্তমান মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, ‘আমি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বর্ধিত সভায় যোগদান করতে কার্যালয়ের কাছাকাছি এলে রেজা গ্রুপের লোকজন আমার নেতাকর্মীদের ওপর ঢিল ছোড়ে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং হামলা চালায়। এই হামলায় আমার সাত কর্মী আহত হয়েছে।’
বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা বলেন, ‘আমি আসন্ন বেলকুচি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী। এর জের ধরে মেয়র আশানুর বিশ্বাসের লোকজন আমার সর্মথকদের ওপর হামলা করেছে।’
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মৃদু উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ছয় রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।