নারায়ণগঞ্জে নবজাতক হত্যায় মা গ্রেফতার

বন্দরে নবজাতক কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগে মা রিক্তা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বন্দর উপজেলার ফরাজীকান্দা খালপাড় এলাকার পুকুরপাড় থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করেন পথচারী এক যুবক। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা লাল মিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বলছে, শিশুর জন্মের পরই তার মা তাকে জঙ্গলে ফেলে আসেন। তবে কী কারণে তিনি এ কাজ করেছেন তা জানতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান বন্দর থানার ওসি ফখরুদ্দীন ভূইয়া। নবজাতকের পিতা লাল মিয়া একটি আটার মিলে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। গ্রেফতার মা রিক্তা বেগম একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। তারা বন্দর উপজেলার ফরাজীকান্দা এলাকার আমানউল্লাহ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। তাদের সংসারে ছয় বছর বয়সি এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। নবজাতক উদ্ধারকারী বন্দরের ফরাজীকান্দা এলাকার যুবক সজীব জানান, তিনি শুক্রবার দুপুরে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ফরাজীকান্দা খালের পাড় থেকে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। সামনে গিয়ে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় নবজাতককে দেখতে পান। এরপর নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে বন্দর থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুদ্দীন ভূইয়া বলেন, ‘নবজাতককে উদ্ধারের পর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, কোনো অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে নবজাতকটির জন্ম হয়েছে। পরে ফরাজীকান্দায় অভিযান চালিয়ে তার বাবা-মাকে খুঁজে বের করে পুলিশ। এরপর নবজাতককে বাবা-মায়ের কাছে দেওয়া হয়। এর মধ্যে নবজাতকটি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে চিকিত্সারত অবস্থায় নবজাতক শিশুটি মারা যায়। ওসি বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মায়ের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঐ রাতেই মাকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ নারী কেন এমন কাজ করেছেন তা জানতে তদন্ত চলছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।