চীনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের একটি একটি ডাটাবেজ থেকে অন্তত ২০ কোটি নাগরিকের তথ্য বেহাত হয়েছে। ওই ডাটাবেজে জীবনবৃত্তা ছিল। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হ্যাকেনপ্রুফ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক চীনা নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের এ ডাটাবেজে নিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থাগুলো সেখানে ব্যবহার করা হয়নি।
হ্যাক হওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে চীনা নাগরিকদের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, একাধিক চীনা চাকরির সাইট থেকে এ তথ্যগুলো হ্যাক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যামাজন ক্লাউড সার্ভার থেকে ডাটাবেজটি সরিয়ে ফেলার আগে অন্তত ১০ বারের বেশি কপি করা হয়েছিল।
এক ব্লগ পোস্টে হ্যাকেনপ্রুফের গবেষণা পরিচালক বব ডিয়াচেনকো জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বড় ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপনী সাইট বিজেডট৫৮ ডটকম থেকে এই বিপুলসংখ্যক চীনা নাগরিকের জীবনবৃত্তান্ত হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কথা নাকচ করেছে সংশ্লিষ্ট ওই অনলাইনটি।
পরবর্তীতে তারা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, তারা নিজেদের সব ডাটাবেজের পাশাপাশি অন্য স্টোরেজগুলো খতিয়ে দেখেছে। যেখানে বিজেডট৫৮ ডটকমের ডাটাবেজ থেকে তথ্য বেহাতের কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি। তারা দাবি করে, অন্য কোনো মাধ্যমে এ ডাটাগুলো প্রকাশ হয়েছে, যারা মূলত অনেকগুলো জীবনবৃত্তান্ত ওয়েবসাইট থেকে ডাটা নেয়ার কাজ করে।
বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
হাতিয়ে নেয়া ডাটাবেজ অ্যামাজন ক্লাউড সার্ভারে রাখা হয়েছিল। তবে হ্যাকেনপ্রুফের গবেষণা পরিচালক বব ডিয়াচেনকো টুইটারে ডাটাবেজটির হ্যাকড হওয়ার খবর জানানোর পর এটি সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
ইন্টারনেট সোসাইটি অব চায়নার তথ্যমতে, গত বছর চীনের ১৯ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সোস্যাল মিডিয়াসহ অন্যান্য অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয় এবং এসব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড খোয়া যায়।
ইন্টারনেট নিরাপত্তা জোরদারে বরাবরই কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে চীন। বিশেষ করে বৈশ্বিক ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর কড়া নজরদারি ও ব্যবহারকারীর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে দেশটি। তা সত্ত্বেও দেশটির বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ভার্চুয়াল নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে দেশটি। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) সহায়তায় অনেকেই নিষিদ্ধ সেবাগুলো ব্যবহার করছে। যে কারণে চীনাদের তথ্য হাতিয়ে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীন সরকার এরই মধ্যে ভিপিএন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন হলো কোনো পাবলিক নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি বিশেষ গোপন নেটওয়ার্ক সিস্টেম, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ডাটা আদান-প্রদানে কিংবা ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ব্যবহারে সহায়তা করে। কোনো দেশ বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট এবং ব্লক করে দেয়া ইন্টারনেট কনটেন্ট দেখার জন্যও ভিপিএন কার্যকর। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক কোনো সেবা ব্যবহারের তথ্য বেহাতের ঝুঁকি খুবই কম। অর্থা? দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যই চীনাদের তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা বাড়ছে।
চীনে এমন ঘটনার পরিমাণ বাড়ছে। এর আগে প্রায় ৫০ লাখ রেল যাত্রীর তথ্য হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি চীনের ১২৩০৬ রেল বুকিং ব্যবস্থাকে হ্যাক করে ডাটাগুলো হাতিয়ে নিয়ে ছিলেন। ২০১৮ সালের আগস্টে হুয়াঝু গ্রুপের ৫০ কোটি গ্রাহকের তথ্য বেহাতের ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল চীনের পুলিশ। চীনজুড়ে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এ প্রতিষ্ঠান। হুয়াঝু গ্রুপের গ্রাহকদের যেসব তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেলে রেজিস্ট্রেশনের তথ্য, বুকিং রেকর্ড এবং ব্যক্তিগত অন্যান্য তথ্য।
সূত্র: বিবিসি