লক্ষ্মীপুরে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা

স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

দেশে মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও বিপদ কাটেনি এখনো। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপ। সব পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের বেশির ভাগ মানুষই মানছে না অপরিহার্য স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহন থেকে শুরু করে অফিস আদালতে বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছে না। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে মানুষের মধ্যে যে ভীতি ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। চিকিত্সকেরা বলছেন, ভীতি কমলেও সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের উদাসীনতা। এর ফল মারাত্মক হতে পারে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে সর্বমোট ২২২৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১৫৭ জন। চিকিত্সাধীন রয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া জেলায় এখন পর্যন্ত ৪০ করোনা পজেটিভ রোগী মারা যায়।

লক্ষ্মীপুরের বাস টার্মিনাল, উত্তর তেমুহনী, দক্ষিণ তেমুহনী ও ঝুমুর এলাকায় গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে যাত্রীদের অনীহা চোখে পড়ে। ঐ সব স্থানে ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক ছাড়া বাসে প্রবেশ করছেন। মাস্ক পরে থাকা যাত্রী করিম, শাহাদাত, ঐশি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না থাকায় মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও রোগীদের অনেক স্বজনই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এ ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন দোকান ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে রয়েছে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা। এদিকে রাজনীতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও শহরের প্রায় সব মসজিদ এবং উপাসনালয়ে এখন আর স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছেন না। সর্বত্র চলছে ঢিলেঢালা ভাব। লক্ষ্মীপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি নূরনবী চৌধুরী বলেন, আমরা টিকিট কাউন্টারে বলে দিয়েছি মাস্ক ছাড়া কারো কাছে টিকিট যেন বিক্রি ও বাসে ওঠতে না দেওয়া হয়। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান জেলার সকল দোকানপাঠ, মার্কেট ও বিপণিবিতানসমূহে মাস্কবিহীন ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুধু হাসপাতালে নয়, সব স্থানেই মাস্ক পরা জরুরি। কিন্তু মানুষ সেটা মানছে না। আমরা চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের মাস্ক না পরে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। তারপরও গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় শক্ত অবস্থান নেওয়া যায় না। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি আরো সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শ দিয়ে প্রায় প্রতিদিন জেলা শহরের বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এছাড়া জেলার প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে সেবা নিতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে জেলা প্রশাসন।