শেরপুর পৌরসভা নির্বাচন
শেরপুর প্রতিনিধি
মেয়র হতে আগ্রহী প্রার্থীদের সচিত্র রঙিন পোস্টার-বিলবোর্ড আর তোরণে ছেয়ে গেছে শেরপুর পৌর এলাকা। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই সেজে উঠেছে পৌর এলাকার প্রতিটি মহল্লা আর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আগ্রহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আগাম প্রচারে সরব হয়ে উঠেছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, উঠানবৈঠক ও কর্মী-সমাবেশ শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও আগ্রহী প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের ইমেজ তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী প্রার্থীরা ঘনঘন রাজধানী যাতায়াত করে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা করছেন।
শেরপুর পৌরসভায় এ পর্যন্ত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোট ১৩ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে পাঁচ জন আওয়ামী লীগ, ছয় জন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও দুই জন স্বতন্ত্র। এরা হচ্ছেন— আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, বার ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উত্পল, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস এবং আওয়ামী লীগ নেতা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আরিফ রেজা। বিএনপি দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ছয় জন। এরা হচ্ছেন—জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান রূপন, এ বি এম মামুনুর রশীদ পলাশ, আনোয়ার সাদাত সুইট, ছাত্রদলের কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি মো. রমজান আলী, শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, শহর বিএনপির সভাপতি হাসানুর রহমান রেজা। এছাড়াও মো. কামারুজ্জামান এবং আল আমিন নামে দুই জন মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান বলে শহরে পোস্টারিং করেছেন। অন্যদিকে এবারই প্রথম শেরপুর পৌরসভায় নিশি নামে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) এক প্রার্থী সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক জানান, দলের নিয়মানুসারে তৃণমূল পর্যায়ের ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া তিন জনের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে হয়। তবে প্রথম তিন জনের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে একমত হওয়া গেলে মেয়র পদের জন্য তিনি একজন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানোর পক্ষপাতি। অন্যথায় তিন জনের নামই কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আরিফ রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল তবে শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ রাখার স্বার্থে এবং তাদের জোর দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত হয়তো তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হবে। বিএনপি দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মাহমুদুল হক জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটে প্রার্থী নির্বাচিত করা হবে।