নালিতাবাড়ীতে ঘুষ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় যুবক খুন, গ্রেফতার ৩

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক প্রতিবন্ধীকে ভাতার কার্ড করে দিয়ে ঘুষ গ্রহণ করার প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের হাতে খুন হয়েছে এক প্রতিবাদী যুবক সুজন মিয়া (৩০)। তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ১০ দিন পর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সুজন মিয়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল প্রায় দুই বছর আগে কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল হালিমের (২৩) কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেন তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য। কার্ড করেও দেন মেম্বার। কয়েক দফা ভাতা উত্তোলনের পর সম্প্রতি স্মার্ট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র কোনোটিই না থাকায় অনলাইনে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে প্রতিবন্ধী হালিম। এমতাবস্থায় ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে।

গত ১০ নভেম্বর ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল সুজনের দোকানে গেলে সে ঘুষ গ্রহণের প্রতিবাদ করে। এতে জলিল ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাই-ছেলেদের ডেকে এনে আকস্মিক সুজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সুজন, তার ছোট ভাই গ্রাম পুলিশ সুমন, মা ফরিদা ইয়াসমিন, ছোট ভাই রাজুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং সুজনের দোকানের আসবাব তছনছ করা হয়। গুরুতর আহত সুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মাথায় অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলে সুজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে রাখা অবস্থায় সে মারা যায়।

সুজনের দুই মাস বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমদ বাদল জানান, সুজনের ভাই সুমন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মেম্বারকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত আছে।