যমুনায় নাব্য সংকট

বাঘাবাড়ী নৌবন্দরগামী জাহাজ চলাচল ব্যাহত

চট্টগ্রাম-বাঘাবাড়ী নৌপথের যমুনা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরগামী পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে রাসায়নিক ইউরিয়া সার ও জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর পরিপেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান নৌবাহিনীর কমোডর গোলাম সাদেক গতকাল রবিবার দুপুরে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ও বাঘাবাড়ী হতে আরিচা পর্যন্ত যমুনা নদীর নৌচ্যানেল পরিদর্শন করে দ্রুত ড্রেজিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বেলা ১১টার দিকে সড়ক পথে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে আসেন। এরপর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নৌবন্দর লেবার এজেন্ট, বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নৌযান শ্রমিকদের  সঙ্গে এ রুটের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া অচিরেই বাঘাবাড়ী নৌবন্দরকে প্রথম শ্রেণির নৌবন্দরে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে এর জরিপ কাজও শুরু করা হবে।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর লেবার এজেন্ট আব্দুল মজিদ বলেন, চট্টগ্রাম-বাঘাবাড়ী নৌরুটের যমুনা নদীতে খুব ধীরগতিতে ড্রেজিং চলছে। দ্রুত ড্রেজিং করা না হলে নাব্য সংকটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আরো ব্যাহত হবে। এখনই আরিচা, নাকালিয়া, পেচাকোলা, মোল্লারচর, বাহাদুরপুর, মাওয়া, ধুলঝুল এলাকায় চাহিদার তুলনায় পানি কম, ফলে পূর্ণ লোডে জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। লাইটারেজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করতে খরচ বেশি হচ্ছে। এতে সরকার ও লেবার এজেন্টদের চরম আর্থিক লোকসান হচ্ছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে সার মজুতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সময় মতো মজুত করা না গেলে আসন্ন সেচ মৌসুমে ইরি-বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাঘাবাড়ী বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নাব্য সংকটে ড্রেজিং চলছে। আশা করি, দুই-তিন দিনের মধ্যে সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।