প্রচণ্ড মারধরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন আবরার

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার এ মামলায় সাক্ষ্য দেন বুয়েটের শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল ও মেসবয় আব্দুল কাদের। মো. ইসমাইল তার জবানবন্দিতে বলেন, ফাহাদকে প্রচণ্ড মারধরের পর নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকেন। এ সময় তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলেও বাধা দেন ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার তত্কালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ও ক্রীড়া সম্পাদক মিফতাহুল ইসলাম জিয়ন। তারা বলেন, শিবির চিনিস তোরা, ওর কিছু হয়নি ও অভিনয় করছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে ইসমাইল বলেন, ঘটনার দিন রাত পৌনে ২টার দিকে রুমমেট আকাশ আমাকে বলে শিবির সন্দেহে একটি ছেলেকে খুব পিটিয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে কিছু জানতাম না। আমি আকাশকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নামি। আকাশও আমার সঙ্গে আসে। তখন আমরা দুই জন রুমে গিয়ে পড়তে বসি। রুমে আসার আধঘণ্টা পর আকাশ ‘ইস’ শব্দ করে খুব আফসোস করছিল। বলছিল, ছেলেটাকে খুবই বাজেভাবে মেরেছে। তখন আমি বলি ছেলেটার কী অবস্থা গিয়ে দেখে আয়। আকাশ তখন রুম থেকে বেরিয়ে ছেলেটাকে দেখতে যায়। এরপর বাইরে কোলাহল শুনে রুম থেকে বেরিয়ে আমি ক্যান্টিনের সামনে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মেহেদী হাসান রবিন ভাই, মিফতাহুল ইসলাম জিয়ন ভাই, তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশাম রাব্বি তানিমসহ আরো কয়েকজনকে দেখি। এরপর হলের কিছু ছেলে এসে রবিন ও জিয়ন ভাইকে বলেন, ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে। তখন রবিন ভাই ও জিয়ন ভাই বলে যে, তোরা শিবির চিনিস না ও অভিনয় করছে। এরপর আমি আবরারের কাছে গিয়ে দেখি সে খুবই মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। তখন আমি রবিন ভাইকে বলি যে, তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। জিয়ন ভাই আমাকে বাধা দিয়ে বলে ও অভিনয় করছে। তুই ওকে চিনিস না। আমি তখন রবিন ভাইকে আবারও গিয়ে বলি, ভাই অন্তত অ্যাম্বুলেন্সটা এনে রাখেন। রবিন ভাই তখন আমাকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার অনুমতি দেন। আমি তখন হলের ফোন থেকে বুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে ফোন করি এবং তাড়াতাড়ি অ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তারকে আসার জন্য বলি। তার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তার আসেন। আমি তখন ডাক্তারের সঙ্গে আবরারের কাছে যাই। ডাক্তার তখন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন যে, রোগী তো নেই। তখন আমি আকস্মিক হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজের ১০০৮ নম্বরে রুমে চলে আসি। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

গত বছরের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরার ফাহাদকে। এ ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় ২৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে।