রংপুরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এএসআই গ্রেফতার

রংপুর নগরীর নুরপুর এলাকায় একটি ৬ তলা ভবনে জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশের এক এএসআই’কে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা মাদক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ১৯৮ পিস ইয়াবা, এক বোতল ফেনসিডিল ও নগদ টাকা। সোমবার সকাল ১০ টার দিকে নগরীর নুরপুর এলাকার ৬ তলা একটি বাড়িতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত বিন কুতুবকে সাথে নিয়ে অভিযান চালায় জেলা মাদক দ্রব্য অধিদপ্তর।

রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত বিন কুতুব জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহায়তায় নগরীর স্টেশন রোডের নুরপুরে এক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৬তলা ভবনের ৪র্থ তলা থেকে ৩ হাজার ১৯৮ পিস ইয়াবা, নগদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা, ৯০০ টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড, ১ বোতল ফেনসিডিল, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই ও চারটি মোবাইলসহ কুড়িগ্রামে কর্মরত পুলিশের এএসআই মনিরু জ্জামানকে আটক করা হয়। পরে তাকে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। 

তিনি আরো জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা নগরীর নুরপুরের একটি বাড়িতে তল্লাসি করি। তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণের মাদক দ্রব্যসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করি। এ মধ্যে ৩ হাজার ১শ’ ৯৮পিচ ইয়াবা রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬লাখ টাকা। এ সময় অভিযুক্ত দু’জনের মধ্যে এক জনকে আটক করা হলেও অপরজন বাড়ীওয়ালা পালিয়ে যান। 

আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৮সালের অনুযায়ী নিয়মিত মামলার জন্য ন্যূনতম শাস্তি হচ্ছে ৫ বছর। যা মেবাইল কোটের আইনের অধীনে মামলা চলমান যোগ্য নয়। সে জন্য নিয়মিত মামলার জন্য আসামিকে আদালতে প্রেরণ করেছি।

আরো পড়ুন: লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বন্যহাতির মৃত্যু

জানা গেছে, এর আগে মাদক সেবন ও কারবারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়ে এএসআই মনিরুজ্জামানকে। বর্তমানে কড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে ক্লোজড অবস্থায় আছেন মনিরুজ্জামান। এএসআই মনিরুজ্জামান পরিবার নিয়ে রংপুর নগরীর ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং সেখানে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। নুরপুরের ওই বাড়িটি হিজড়া মিলন নামে এক ব্যক্তির।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই (সাব ইনস্পেকটর) তাহিদুল ইসলাম জানান, আটককৃত এএসআই মনিরুজ্জামান গাইবান্ধা সদরের দক্ষিণ ফুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। সে পরিবার নিয়ে রংপুর নগরীর নুরপুরের ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে গোপনে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে মাদক সেবন ও কারবারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এএসআই মনিরুজ্জামান সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছে। বর্তমানে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে ক্লোজড অবস্থায় আছেন।

ইত্তেফাক/এএএম