পলিথিনে হোটেল-রেস্তোরাঁর গরম খাবার!

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

নিষিদ্ধ পলিথিনের নির্বিচার ব্যবহারে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় তারা প্রায় সব কাজেই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছেন। এমনকি, হোটেল-রেস্তোরাঁর তরিতরকারিসহ সব ধরনের গরম খাবারও বাইরে বিক্রির সময় পলিথিন ব্যাগে ভরে দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা সদরসহ স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাটবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকান পলিথিন ব্যাগের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। মাছ, মাংস, শুঁটকি, পান-সুপারি, চিনি-গুড়, শাকসবজি, ফল পলিথিনে ব্যাগে ভর্তি করে দেওয়া হচ্ছে। কমলগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ সাগ্নিক, শিক্ষক জমসেদ আলী বলেন, খাদ্যপণ্যের মোড়ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য আলাদা মানসম্মত পলিথিন পাওয়া গেলেও দাম বেশি হওয়ায় হোটেল-রোস্তোরাঁর মালিকরা তা ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখায় না। মানহীন পলিথিনে গরম অবস্থায় ভর্তি করা এসব খাবার খেয়ে কিডনি-লিভারের ক্ষতিসহ জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। কমলগঞ্জের মোদি দোকানি সহিদুল ইসলাম, সবজি বিক্রেতা ইউনুস মিয়া বলেন, ‘পলিথিনের কারখানা বন্ধ না করে খুচরা বাজারে এসে পলিথিন বন্ধের কথা বললে কোনো কাজে আসবে না। পাইকারি বাজারেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে। আমরাও পণ্যের সঙ্গে পলিথিন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।’ চিকিত্সক ডা. মাহবুবুল আলম ভুঁইয়া, পিন্টু দেবনাথ বলেন, ‘পলিথিন খুবই ক্ষতিকর। আর গরম খাবার পলিথিনে নেওয়া হলে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা খাবারের সঙ্গে দ্রুত মিশে যায়। এতে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, এমনিতেই পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ রয়েছে। তাছাড়া উচ্চ আদালতেরও নির্দেশনা রয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও এসব ব্যাগ ব্যবহার করা যাবে না। আগামী এক বছরের মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।