রায়পুরে বেপরোয়া ‘কিশোর গ্যাং’!

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সম্প্রতি কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শহরসহ ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই মোটরসাইকেলে চড়ে মহড়া দেয় এসব কিশোর গ্যাং। ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি ছাড়াও এদের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, ছিনতাই-রাহাজানির সঙ্গে জড়িয়ে পড়াসহ সিনিয়র সিটিজেনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বামনী ইউপির বাংলাবাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একদল কিশোরের হাতে তরুণ ব্যবসায়ী জাকারিয়া (২৫) জখম হন। এ ঘটনার কয়েকমাস আগে সাগর্দি গ্রামে এক স্কুলছাত্রীকে উত্তক্তের ঘটনায় হামলা ও মামলা হয়। মূলত এর পর থেকেই প্রকাশ্য আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে রায়পুর উপজেলায় এ রকম বেশ কটি কিশোর গ্যাংয়ের খোঁজ পাওয়া যায়। পৌরসভা এলাকাসহ দক্ষিণ চরবংশী ইউপির মোল্লারহাটে, আখনবাজারে, উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজারে, ভেড়িবাধের ওপর, উত্তর চরআবাবিল ইউপির উদমারা এলাকা, মিতালী বাজার, হায়দরগঞ্জ বাজারের কয়েকটি স্থানে, ক্যাম্পেরহাট বাজার, ঝাউডুগি এলাকা, চরমোহনা ইউপির স্টিলব্রিজ এলাকা, সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া বাজারের কয়েকটি স্থান, বাসাবাড়ী বাজার এলাকা, বামনী ইউপির বাংলাবাজার ও কাফিলাতুলি বাজার, চরপাতা ইউপির বোয়াডার বাজার, গাজীনগর এলাকা, কেরোয়া ইউপির মীরগঞ্জ বাজার, পানপাড়া বাজারে, জোড়পুল এলাকা, সুনামগঞ্জ বাজার, ওয়াইজ্জার পুল, রায়পুর ইউপির সোলাখালী ব্রিজ এলাকা ও চালতাতুলি এলাকায় একেকটি দলে ১৫-২০ জন কিশোর থাকা পৃথক গ্যাংয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কিশোর গ্যাংয়ের অধিকাংশেরই নেতৃত্বে থাকে বিভিন্ন এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী পরিবারের বখে যাওয়া কিশোর ও তরুণ। প্রায়শই উপজেলাব্যাপী দলবদ্ধ হয়ে এরা উচ্চ ক্ষমতার মোটরসাইকেলে করে বিকট শব্দের হর্ন বাজিয়ে সড়ক দাপিয়ে বেড়ায়।

রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, মাদক, ইভটিজিংসহ এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি আবশ্যক, পাশাপাশি প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক প্রশ্রয় বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়াও কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গেলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। অভিভাবকের উচিত ছেলেরা কোথায় কী করে, কার সঙ্গে মিশে তার খোঁজখবর রাখা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিন চৌধুরী বলেন, প্রশাসন অপরাধীদের দমন করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এসব অপকর্ম রোধে সর্বাগ্রে পরিবার তথা অভিভাবকদের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে পরিবারে শুদ্ধাচারের অনুশীলন রয়েছে সেখানকার কেউই বখাটে হতে পারে না। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও এসব প্রতিরোধে সহায়ক। রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, অভিভাবকদেরকেই তাদের সন্তানদের বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ধার পর তার সন্তানরা কোথায় আছেন, তা খোঁজ রাখতে হবে। সকল সন্তানদের এক সঙ্গে করে রাতের খাবার খেতে হতে পারে। সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রতিটি সভা, সমাবেশে ও পুলিশিং বিটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি, অভিভাবকদের সঙ্গে তাদের সন্তানদের সচেতন করা হচ্ছে।