স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য হোক

একজন নারী প্রথম ঋতুবতী হওয়ার মানে হলো সে পৃথিবীতে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত। এটি প্রকৃতিগত বিষয়। তবে এটি নিয়ে খোলাখুলিভাবে খুব কম মেয়ে কথা বলতে পারে। বর্তমান সমাজে এটিকে মেয়েলি বিষয় হিসেবে গণ্য করে ‘অযাচিত লজ্জা’ নামক ট্যাগ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে কথা বলতে চাইলে যে কেউ কোনো না কোনো খারাপ মন্তব্যের তোপে পড়ে চুপ হতে বাধ্য হয়। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ নারী এখনো মাসিক ব্যবস্থাপনার বাইরে। পিরিয়ডকালীন সময়টাতে তারা প্যাডের পরিবর্তে কাপড় ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যা অস্বাস্থ্যকর। যায় ফলে ইনফেকশনের আশঙ্কা দেখা দেয়। আর এই ইনফেকশনের কারণে তলপেটের ব্যথা দেখা দেয়, জরায়ু সমস্যা, সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হ্রাসের ফলে অনেক সময় বন্ধ্যত্বকে বরণ করে নিতে বাধ্য হয় অনেকে। স্যানিটারি ন্যাপকিন স্বাস্থ্যকর হলেও এর মূল্য আকাশচুম্বী। এ কারণেই অনেক মেয়ে অস্বাস্থ্যকর কাপড়কে একমাত্র উপায় হিসেবে বেছে নেয়। বর্তমানে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে প্যাডের শোষণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে অনেক কোম্পানি দাম নির্ধারণ করে। তাই মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সবাই যাতে সুলভ মূল্যে প্যাড কিনতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া। স্যানিটারি ন্যাপকিনকে ‘বিলাসবহুল দ্রব্য’ না ভেবে ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের’ একটি অংশ ভাবতে হবে।

ইসরাত জাহান

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ