বৈদেশিক অনুদান ৩ শতাংশে নেমেছে

দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, বাকিটা ছিল ঋণ। এখন সেই অনুদানের পরিমাণ ৩ শতাংশে নেমেছে বলে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। আর স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের ঋণ ৪৪ হাজার ২৩ মিলিয়ন ডলার বা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা প্রায়, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ ঋণের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বিশ্ব ব্যাংকের, ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ এডিবির, ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ জাইকার,  ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ চীনের, ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ রাশিয়ার, ১ দশমিক ৩ শতাংশ ভারতের এবং অন্যান্য ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপন ছাড়াও

প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত এসব নির্দেশনা দেন। সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নাগরিকদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সরকার আরো কঠোর হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। প্রয়োজন হলে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে আরো বেশি সংখ্যায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নাগরিকদের মাস্ক পরার বিষয়টি আরো বেশি করে প্রচার করার জন্য, যাতে মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে। মাস্ক ব্যবহার না করলে ভ্যাকসিন বলেন, আর ওষুধ বলেন প্রোটেকশন কোনো কাজে আসবে না।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে জনগণকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে জরিমানায় কাজ না হলে, শাস্তি আরো কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, আরো এক সপ্তাহ দেখতে। জরিমানায়ও যদি মানুষ সচেতন না হয়, তাহলে আরেকটু কঠোর শাস্তির দিকে যেতে হবে।

বৈদেশিক অনুদান ৩ শতাংশে নেমেছে

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, বাকিটা ছিল ঋণ। এখন সেই অনুদানের পরিমাণ নেমেছে ৩ শতাংশে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বৈদেশিক সহায়তার অবস্থা কী সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ১৯৭১-৭২ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত এই হিসাবে তুলনামূলক একটি চিত্র উপস্থাপনা করা হয়। যেমন— ১৯৭১-৭২ অর্থবছর আমাদের বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে গ্র্যান্ট (অনুদান) ছিল সর্বোচ্চ ৮৪/৮৫/৮৬ শতাংশ, ঋণ ছিল ৬ থেকে ৮ শতাংশ। বেশির ভাগ অনুদান হিসেবে আসত।’

‘আর ২০০৯-১০ সালে অনুদান ছিল ৩০ শতাংশের মতো, ৭০ শতাংশের মতো ঋণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনুদান ছিল সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মতো, আর ৯৫ শতাংশই ছিল ঋণ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা কিন্তু এটা থেকে বুঝা যাচ্ছে, কীভাবে শিফট হয়ে যাচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান আরো কমে গেছে, ২-৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, ৯৭ শতাংশেই আসছে লোন হিসেবে। আমরা আর দানের ওপর নির্ভর করছি না। আমরা আমাদের নিজস্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হলো—আমরা রি-পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো দিনই ডিফল্টার হইনি, এটা একটা বড় সাকসেস। তিনি বলেন, আমাদের ঝুঁকি নেই। বৈদেশিক ঋণ যখন জিডিপির ৪০ শতাংশ বা এর বেশি হয়ে যায় তখন ঝুঁকি থাকে। আমাদের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ হলো ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আমরা অনেক সেফটিতে আছি আল্লাহর রহমতে।’

সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমাদের এডিপি হচ্ছে—১ লাখ ৭৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সাহায্য আসছে ৫১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। বৈদেশিক সাহায্য বেড়েছে কিন্তু পার্সেন্টেজ নেমে এসেছে ২৯ দশমিক ২৫-এ। আমাদের নিজস্ব বিনিয়োগ এত বেড়েছে যে, বাইরের ঋণ এলেও এটা শতাংশের হারে অনেক নিচে।

চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনে

আইনের খসড়া চূড়ান্ত

চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২০’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নামের একটি আইন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পীদের একটি কল্যাণ ট্রাস্ট আইন করা যায় কি না। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়ন করে এবং এর আগে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা এই আইনের অধীনে আসবেন তারা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আইনের বেনিফিট পাবেন না। যে কোনো এক জায়গায় সে নিবন্ধিত থাকবেন এবং সেই ডাটা বেইজ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। ট্রাস্ট পরিচালনায় একটা বোর্ড থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন তথ্যমন্ত্রী। বোর্ডের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন, তিনি সরকার থেকে মনোনীত হবেন।