ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এক মামলার চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুমোদিত চার্জশিটে খালেদের বিরুদ্ধে ৪২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে কমিশন এ চার্জশিট অনুমোদন দেয়। শিগিগরই এই অভিযোগপত্র বিচারিক আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।
খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২১ অক্টোবর ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলা করে দুদক। পরে কমিশনের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মামলার তদন্ত করেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দেশ-বিদেশ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী আসামি খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার নামে মালয়েশিয়ার ‘মে’ ব্যাংকে ২০১৮ সালে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯২ রিংগিত জমা করেন যা বাংলাদেশি টাকায় ২ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ৬৯৬ টাকা। এছাড়াও তিনি আরএইচবি ব্যাংকে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৬ টাকা জমা করেন। এক ব্যাংকে অপর একটি হিসাবে এফডিআর বাবদ ৬০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে। ফলে আসামি খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া মালয়েশিয়ায় বর্ণিত ব্যাংক হিসাবে মোট ৫ কোটি ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ২৭২ টাকা জমা রেখেছেন।
তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিস ব্যাংকে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর একটি ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে বাংলাদেশি টাকায় ৩ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৪ টাকা জমা করেন।
খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংকে ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর একটি ব্যাংক হিসাব খুলে তাতে বাংলাদেশি টাকায় মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা করেন। অর্থাত্ আসামি খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া বর্ণিত তিনটি দেশে বাংলাদেশি টাকায় মোট ৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা দেশে অর্জন করে পাচার করেছেন।
এছাড়া তদন্তকালে তার নামে ৪২ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এবং ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচারের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্লাবপাড়ায় অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে ধরা হয়।