মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় না মেনে নেওয়ার নেপথ্যে

২০২০ সালের নির্বাচনে মেইলের মাধ্যমে ভোট প্রদানের যে প্রবণতা দেখা গেছে তা ছিল অস্বাভাবিক। এর প্রধান কারণ করোনা মহামারি হলেও এটা বেশি মাত্রায় ভোটে অংশগ্রহণের ধারাকেও উত্সাহিত করেছে। এই ভোটিং ব্যবস্থায় যতটুকু সামঞ্জস্য দেখা গিয়েছে তা আগের তুলনায় বেশি নয় বরং যথেষ্ট কম ও তুচ্ছ ঘটনা।

প্রকৃতপক্ষে বাইডেন বেশ সহজভাবেই ইলেকটোরাল কলেজে জয় তুলে নিয়েছেন, যেটা ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প করেছিলেন। এটার সত্যতা পাওয়া যাবে রাজ্যগুলোর সব হিসাব সম্পন্ন হওয়ার ডাটা থেকে। যদিও পপুলার ভোট আমেরিকার নির্বাচনে বিশেষ কার্যকরী নয়, তথাপি বাইডেন যে-সংখ্যক ভোট পেয়েছেন তা একটি ইঙ্গিত বহন করে। ২০১৬ সালে নির্বাচনে ট্রাম্প ৩০ লাখের মতো ভোট কম পেয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এবার সেখানে বাইডেন ৬০ লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন ট্রাম্পের চাইতে। যদি পপুলার ভোট আগের তুলনায় ট্রাম্প বেশি পেতেন, তাহলেও তারা হয়তো সেটিকে ইস্যু করতে পারতেন বা ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ ও পপুলার ভোট দুই ক্ষেত্রেই তাদের মনোনীত প্রার্থী ট্রাম্পের পরাজয়টা হয়ে উঠেছে অকাট্য।

তাহলে টাম্পের পক্ষ থেকে পরাজয় মেনে নেওয়া হচ্ছে না কেন? উত্তরটি সহজ, ট্রাম্প আসলে পরাজয় স্বীকার করে নিতে অক্ষম। তিনি ধারণা করছেন এবং চাইছেন এটাকে পুঁজি করতে : তিনি প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ভোট পেয়েছেন, যেটি একটি রেকর্ড। এখন পর্যন্ত এত ভোট কোনো প্রার্থী পাননি একমাত্র জো বাইডেন ছাড়া। বাইডেন প্রায় ৮ কোটি ভোট পেয়েছেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অনুসারীদেরকে পুঁজি করতে চাইছেন। রাজনৈতিক কারণ হলো, তিনি রিপাবলিকান দলের মধ্যে নিজের গুরুত্ব ধরে রাখতে চাইছেন। হয়তো-বা তিনি এটাকে ভিত্তি করেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবার দলের মনোনয়ন চাইবেন। তখন ট্রাম্পের বয়স হবে এখনকার বাইডেনের সমান। অর্থনৈতিক কারণ হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগত, করপোরেট এবং তার প্রচার বিষয় নিয়ে ভয়ানক ঋণের মুখে পড়েছেন। ইলেকশনের ফান্ড-রেইজ একটি চ্যালেঞ্জই। আইনগত, ট্রাম্প হয়তো অফিস ত্যাগ করার আগে তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন, তার পরও অফিসে ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি নিউ ইয়র্ক এবং অন্যত্র গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। তাকে অন্যায়ভাবে পরাজিত করা হয়েছে এই অভিযোগটি তিনি ভবিষ্যতে মামলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারেন।

ট্রাম্পের দল তাই দুই স্তরে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যদি ট্রাম্প কয়েকটি রাজ্যের রিপাবলিকান দলের সিনেটরদের বোঝাতে পারেন তাকে পরাজিত করা হয়েছে, তাহলে আবার  ইলেকটোরাল কলেজ তাকে দ্বিতীয় দফার জন্য প্রেসিডেন্ট বানাতে পারে। কিন্তু সাংবিধানিক ক্যুর এই ভয়ানক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা দিনে দিনে ফিকে হয়ে গেছে। বরং ট্রাম্প এখন পরাজয় স্বীকার করে পদত্যাগের দিকেই যাচ্ছেন। কিন্তু সেটা করার আগে তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এবং নীতিতে যত রকম ঘুঁটি চালতে পারেন সে চেষ্টা করবেন। এবং এই দাবি নিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন যে অন্যায়ভাবে তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে :‘চুরি বন্ধ করো’ কথাটি পালটে হয়ে যাবে ‘চুরির কথা স্মরণ করো, এবং ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা মিলে বাইডেনকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বাইডেনের জীবনকে জটিল করে তুলতে চাইবে।

যত যা-ই হোক, ট্রাম্পকে পরাজয় মেনে নিতে হচ্ছে এবং আগামী চার বছর একটি সত্যিই ইন্টারেস্টিং সময় অপেক্ষা করছে।

লেখাটি ইংরেজি থেকে ভাষান্তরিত

n লেখক :লেবানিজ বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক