বিচ্ছিন্নতাই উন্নয়নের অন্তরায়!

নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরা এক অপরূপ দ্বীপের নাম সন্দ্বীপ। প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন; এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য সাতটি নৌ-রুট থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র একটি। আর সেটি প্রায় ১৮ কিলোমিটারের কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌ-রুট। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রুটে যাতায়াত করতে হয়। এ দ্বীপের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল অন্তরায়ই মূল ভূখণ্ড থেকে এই বিচ্ছিন্নতা। নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত এই নৌ-রুটে। যা হোক, বিগত কয়েক বছরে নানা উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সন্দ্বীপে। কিন্তু উন্নয়ন ও সম্ভাবনার মূল অন্তরায়—যাতায়াত সমস্যা থেকে কিছুতেই নিস্তার পাচ্ছে না দ্বীপের মানুষ।

তবে আশা জাগানিয়া খবরও আছে দ্বীপের মানুষের জন্য। ইতিমধ্যে সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্যে খুব উপযুক্ত মনে করছে সন্দ্বীপকে। একে যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। সন্দ্বীপের কূলে নতুন চর জাগায় বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। আর তাই, গুপ্তছড়া ঘাটের জেটিটি যদি সামনের দিকে আরেকটু সম্প্রসারণ করা হয় বা পুরো নদীপথে যদি একটি সেতু করে দেওয়া হয়, তাহলে এই অঞ্চলের মানুষের আর কোনো চাহিদা থাকবে না। এই চাহিদা পূরণ হলেই দ্বীপবাসী খুশি। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হবে সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সেতুবন্ধন। পর্যটন কেন্দ্রও হয়ে উঠবে অবহেলিত এই অঞ্চলে। বাংলাদেশ নই শুধু; বরং বিশ্বের অনেক জায়গা থেকেই এই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসবে হাজারো পর্যটক।

আসাদুজ্জামান জাহিদ, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ