পুরস্কার তুলে দেওয়া হলো প্রয়াত প্রতিভা সাংমার স্বজনদের হাতে

যতদিন বেঁচে ছিলেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য অহর্নিশ কাজ করেছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারো নারীদের কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাত্ ‘দেবী’। বনবাদাড়, পাহাড়ি টিলা আর লাল মাটির কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে দল বেঁধে গারো ছেলেমেয়েরা আজ স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। এখন তাদের চোখেমুখে অনেক স্বপ্ন। আর এ স্বপ্ন আঁকা যিনি শিখিয়েছেন তিনি ‘প্রতিভা দিদি’। প্রয়াত প্রতিভা সাংমা। মধুপুর বনাঞ্চলের গারো রমণীরা তাকে এক নামেই চেনেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা ২০১৯ লাভ করেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের এই নারী। এর পুরস্কার গতকাল মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয় তার স্বজনদের হাতে। গারো রমণীদের শিক্ষাদীক্ষার ‘বাতিঘর’ সেই বিদূষী নারীকে নিয়ে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এভাবেই স্মৃতিচারণ করেন জলছত্র কর্পোস খৃষ্ট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং গারো নেত্রী সুজানা চাম্বুগং।

গত মার্চ মাসে বাংলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আর দশ বিদূষী নারীর সঙ্গে ‘অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা’ নেওয়ার কথা ছিল প্রতিভার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। এরই মধ্যে গত ৬ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৮ বছর বয়সে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে। গত ১১ সেপ্টেম্বর এক ভার্চুয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতিভা সাংমা বাদে বাকি সবার কাছে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সেদিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শীর্ষদশ নারীর মধ্যে শুধু প্রতিভা সাংমা মরণোত্তর সম্মাননা লাভ করেন।

গারো নারী সংগঠন আচিকমিচিক সোসাইটির সভানেত্রী সুলেখা ম্র্রং জানান, আদিবাসী গারোদের শিক্ষার হার প্রায় ৯৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে অগ্রদূতের মতো ব্যাপক অবদান রাখেন প্রতিভা। দীর্ঘ জীবনের পুরোটাই অকাতরে ব্যয় করেছেন গারো সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কাজে।

গতকাল সম্মাননার ক্রেস্ট, উত্তরীয়, সনদ ও নগদ অর্থ তার প্রয়াত পালক পুত্রের স্ত্রী বিরলা দ্রংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিভার ভাইপো পুলক সাংমা, ভাইপোর স্ত্রী শ্যামলী আজিম, ওয়াইএমসির সম্পাদক বাপ্পু মৃ, শিক্ষক সুজনা চাম্বুগং প্রমুখ। প্রতিভা সাংমার কাজের যথাযথ স্বীকৃতি এবং সম্মাননা প্রদান করায় পাক্ষিক অনন্যা কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিরলা দ্রং।