নাতির ধর্ষণের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় দাদার ওপর। পরে ধর্ষণের শিকার ঐ শিশুকে বিয়ে দেওয়া হয় ৮৫ বছরের বয়স্ক দাদা মহির উদ্দিনের সঙ্গে। অমানবিক এ ঘটনার তদন্ত করে রবিবারের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জামালপুরের ডিসি, এসপি ও দেওয়ানগঞ্জের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়। আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। তিনি জানান, দুটি পত্রিকার প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনেছি। হাইকোর্ট তদন্তের আদেশ দিয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউপির বয়ড়াপাড়া গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই এলাকার সুরমান আলীর বখাটে ছেলে শাহিনের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে ঐ শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে গর্ভপাত ঘটানো হয়। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ১৬ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় মাতব্বররা এ বিষয়ে সালিশ বৈঠক করে ধর্ষক শাহিনকে ১০টি দোররা মেরে তার কর্মকাণ্ডের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ দাদার ওপর। পরে দাদা মহির উদ্দিনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ১২ বছরের কিশোরীর বিয়ে দেন স্থানীয় মাতব্বরেরা। বৃদ্ধ ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, চোখেও ঝাপসা দেখেন। তিনি সাত সন্তানের বাবা। তার দুই স্ত্রী অনেক আগে মারা গেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় চর আমখাওয়া ইউপি সদস্য নাদু মেম্বারসহ আরো কয়েকজন।