মাত্র দুই কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা

মাত্র দুই কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলার রায় দিয়েছে রংপুরের একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মোস্তফা পাভেল রায়হান এ রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বিশ্বনাথ গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে বস্ত্র ব্যবসায়ী মোস্তাফিজার রহমান (৩৬) একজন বিবাহিত ব্যক্তি। তিনি তার ফুপাতো বোনকে (২৬) তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওই তরুণী তাতে রাজি না হননি। ঐ নারী ২০১৯ সালের ৮ মে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু মোস্তাফিজার ঐ নারীর স্বামীকে বলেন যে, তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এর পরিণতিতে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। এই সুযোগে মোস্তাফিজার তাকে আবারও কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে, এই বিষয়টি জানার পর মোস্তাফিজারের স্ত্রী সংসার করবেন না বলে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মোস্তাফিজার তার প্রেমিকাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ওঠেন। পরপর তিন দিন তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি জেনে গেলে দুজনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু মোস্তাফিজার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় চলতি বছর ৮ জানুয়ারি মোস্তাফিজারকে আসামি করে আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন তার ঐ ফুপাতো বোন।

পরে মামলাটি তদন্তের জন্য রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয় আদালত। ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। মামলায় চার্জ গঠনের পর গত সোমবার (২৩ নভেম্বর) পাঁচ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও গতকাল মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শেষে এর রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে আসামি মোস্তাফিজার রহমানকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মাত্র দুই কার্যদিবসে রায় ঘোষণা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মারজিয়া হাসান দিবামনি ও আসামিপক্ষের আইনজীবী রইচ উদ্দিন বাদশা। এদিকে, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মারজিয়া হাসান দিবামনি বলেন, যথাযতভাবে সাক্ষী প্রমাণ উপস্থিত করতে না পারায় বিচারক আসামিকে খালাস দিয়েছেন। তবে যেখানে বছরের পর বছর এ ধরনের মামলা ঝুলে থাকে, সেখানে দুই কার্যদিবসে রায় দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. রইচ উদ্দিন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগটি সাজানো ছিল। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।