ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কিছু বক্তব্য নিয়ে দেশের ভেতর-বাইরে তুমুল আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের বেসরকারি জিএনএন টিভি চ্যানেলে দীর্ঘ সাক্ষাত্কারের এক পর্যায়ে ইমরান খান স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে পাকিস্তানের ওপর চাপ রয়েছে। ইমরান বলেন, ‘আমেরিকায় ইসরাইলের গভীর প্রভাব রয়েছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় আরো বেড়েছে ... চাপটা সেখান থেকেই।’ মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশও কি পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে, এমন প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও তা সামলে ইমরান খান উত্তর দেন, ‘সব কথা সব সময় বলা যায় না। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো।’
এই সাক্ষাত্কার প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই ইমরানের এসব কথা নিয়ে পাকিস্তানের ভেতর এবং বাইরে আলোচনা চলছে। ইসরাইলের বড় বড় সংবাদমাধ্যমেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কথার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে। হইচই দেখে সাক্ষাত্কারটি প্রচারের দুই দিন পরেই ১৭ নভেম্বর পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতি দিয়ে বলে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের ওপর কোনো চাপ নেই। তবে এতে বিতর্ক থেমে নেই। বিশেষ করে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ মুসলিম রাষ্ট্রের কাছ থেকে চাপ তৈরির যে প্রশ্ন ইমরান খান এড়িয়ে গেছেন, সেটি কোন দেশ হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার।
পাকিস্তানের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক কানওয়ার খুলদুন শহিদ ইসরাইলি দৈনিক হারেতজে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন, চাপ দিচ্ছে এমন যে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ মুসলিম দেশের নাম ইমরান এড়িয়ে গেছেন, সেই দেশটি সৌদি আরব। ঐ সাংবাদিক আরো লিখেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে। কারণ, তার মতে, সেনাবাহিনী মনে করে তাতে ভারত-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্কে কিছুটা হলেও ভারসাম্য আনা যাবে। সৌদি আরবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘অর্থনৈতিক স্বার্থের’ কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানি ঐ সাংবাদিক ইঙ্গিত দেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমেও হয়তো সৌদি ইসরাইল নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান বদলের চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং পাঞ্জাবের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হাসান আসকারি রিজভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে, ফলে ওয়াশিংটন যদি এ নিয়ে পাকিস্তানকে কিছু বলে থাকে, তাতে তিনি অবাক হবেন না। তিনি বলেন, ‘নানা কৌশলগত ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অব্যাহত কথাবার্তা পাকিস্তানের হয়। সেসব যোগাযোগের সময় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কিছু পরামর্শ, প্রস্তাব আসতেই পারে। এটাকে অনেকে চাপ হিসেবেও দেখতে পারেন ... আমি এতে বিস্মিত নই।’ তবে চাপ বা পরামর্শ যেটাই আসুক তাতে পাকিস্তানের সায় দেওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? হাসান রিজভি মনে করেন পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরাইল বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া ইমরান খানের জন্য হবে ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা’।