শিশুদের উপযোগী অ্যাপ ‘বেবিটিউব’

নিলয় মামুন

দিন দিন বাড়ছে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বেশির ভাগ শিশু-কিশোরই এখন ইন্টারনেটে সময় কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও ইউটিউবে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। তবে অনেক সময় দেখা যায়, আপত্তিকর অনেক ভিডিও তাদের সামনে চলে আসে। অভিভাবকরাও এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। আর এসব চিন্তা করেই শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিতে ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ইউটিউবের অনুরূপ অ্যাপ ‘বেবিটিউব’ বানিয়েছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। যেখানে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ, মজাদার এবং শিক্ষণীয় ভিডিও শেয়ার করা যাবে। গুগল প্লেস্টোরে এই অ্যাপের পাশাপাশি সেবা পাওয়া যাবে বেবিটিউবের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটেও। বয়সভেদে যে কেউ এই সাইটে ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। তবে বেবিটিউবে শিশুদের বিকাশের পথে বাধা হয়, এমন কোনো ভিডিও দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনুমোদনের পরই স্বল্প সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের ভিডিওটি আপলোড করা হবে। যার কারণে বেবিটিউবে শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকারক ভিডিও থাকার সুযোগ নেই। সব ক্যাটাগরির ভিডিও আপলোড করা যাবে এতে। এর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, কার্টুন, পড়াশোনা, মুভি, নাটক, গেম, গান, গজল, ট্রাভেল, ব্লগ, টেকনোলজিসহ শিশু-কিশোরনির্ভর সব ধরনের ভিডিও। তবে সেগুলো হতে হবে অবশ্যই শিশুদের জন্য পজিটিভ ও মজাদার। যারা এই অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে ভিডিও আপলোড করবেন তারা বেবিটিউবের পরিচালনা পর্ষদের তত্ত্বাবধানে ইউটিউবের মতো আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন। গত ২৩ আগস্ট অ্যাপটির যাত্রা শুরু হয়েছে। এর ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও হিসেবে রয়েছেন শামীম আশরাফ। কো-ফাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন সাজ্জাদুল ইসলাম। এছাড়া ব্যবস্থাপনা সদস্য হিসেবে রয়েছেন—ওয়াশিমুল রাফিন, আবির আহমেদ, হাসিবা হোসাইন, রবিউল ইসলাম, আফসানা ইয়াসমিন অনু, তুলাঈব মুহাম্মদ কাইফ ও জামিলসহ মেন্টর মশাই টিম।

বেবিটিউবের উদ্ভাবন সম্পর্কে শামীম আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিটি পরিবারে বেড়েছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার। পিছিয়ে নেই শিশু-কিশোররাও। যার কারণে বিজ্ঞানের আশীর্বাদ থেকে শিশুদের বঞ্চিত না করে সঠিক ও শিক্ষণীয় বিষয় পৌঁছে দিতে এ ভিন্ন চিন্তাধারার বেবিটিউব। যা হবে প্রযুক্তির দুনিয়ায় শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষণীয় ও নিরাপদ ইন্টারনেট প্ল্যাটফরম। প্রতিটি শিশু-কিশোর যেন থাকে নিরাপদ ইন্টারনেটের আওতায়। যার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে সুস্থ ও সুন্দর জীবন। শিশু-কিশোরবান্ধব সুন্দর পৃথিবী গড়তে চায় বেবিটিউব।