রিয়াদ হোসেন
চলতি বছর সব অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদে টিআইএনধারীকে (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) আয়কর বিবরণ বা রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে করযোগ্য আয় থাকুক কিংবা না থাকুক আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ কারণে এ বছর রিটার্ন দাখিল বাড়বে বলে মনে করছে আয়কর অফিসগুলো। আগামী ৩০ নভেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস। ঐদিন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর পর রিটার্ন জমা দিতে হলে জরিমানা গুণতে হবে করদাতাদের। জরিমানা এড়াতে করদাতারা এই সময়ে এসে রিটার্ন জমা দিতে আসছেন। ফলে ভিড় বাড়ছে করদাতাদের। গতকাল বুধবার সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি কর অফিসে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের পাশের ভবনে কর অঞ্চল-৫-এর ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবনের নিচতলায় এবং ১১ তলায় বিভিন্ন কক্ষে করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া, ই-টিআইএন নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কোনো তথ্য জানার জন্য বুথও করা হয়েছে। করদতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে এসে তারা অনেকটা ঝামেলাহীন ভাবেই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। আব্দুল হান্নান নামে এক করদাতা জানালেন, কর অফিসে মেলার পরিবেশেই তিনি তার রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
কর অঞ্চল-৫-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর অঞ্চলের অধীনে ব্যক্তি ও কোম্পানিসহ ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি টিআইএন রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর রিটার্ন জমা হয়েছিল প্রায় ৫১ হাজার। এছাড়া ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত গতবছর রিটার্ন জমার পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৩৫৬টি। এবার একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২২১টিতে। এই কর অফিসের যুগ্ম কমিশনার শেখ শামীম বুলবুল ইত্তেফাককে বলেন, এই অফিসে এবছর রিটার্ন জমা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ হাজার হতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এবারের বাজেটে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে অনেকের আয় না থাকলেও রিটার্ন জমা দেবেন। এছাড়া তারা এবার করদাতার কাছে খুদে বার্তাসহ ব্যাপক প্রচারণাও চালিয়েছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে পল্টনে কর অঞ্চল-১৩তে। গত কয়েক দিন ধরে সেখানেও করদাতাদের ভিড় বাড়ছে। কর অঞ্চল-১৩ এর কমিশনার মো. বজলুল কবির ভূঁঞা ইত্তেফাককে বলেন, মানুষ করোনার মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে রিটার্ন জমা দিতে আসছেন। হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর প্রদান করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। আগামী সপ্তাহে ভিড় আরো বাড়বে বলে আশা করছি। সেক্ষেত্রে রিটার্ন জমা কর সার্কেল অফিসগুলোতে বিস্তৃত করা হবে।
অবশ্য করোনার কারণে মানুষের আয় কমে যাওয়া এবং প্রান্তিক করদাতাদের কর থেকে কিছুটা রেহাই দেওয়ায় এবার কর আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় নাও বাড়তে পারে বলে মনে করেন কর কর্মকর্তারা। দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা ৪০ লাখের উপরে। এর মধ্যে গত বছর দেশব্যাপী ২২ লাখের মতো করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে দেশে করদাতাদের সচেতন করতে আয়কর মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় করদাতারা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া কিংবা টিআইএন নিতে পারবেন। ফলে মেলায় মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। মোট জমা হওয়া রিটার্নের এক-তৃতীয়াংশই দাখিল হয় মেলায়। তবে এবার করোনা ভাইরাসের কারণে মেলা আয়োজন স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর); কিন্তু কর অফিসগুলোকে মেলার পরিবেশে করসেবা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এনবিআর থেকে।